আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে আফগান তালেবান

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি

ব্লিংকেনের সতর্কবার্তা

 বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নিলে দেশ জুড়ে তালেবান জঙ্গিরা দ্রুত সামরিক শক্তি লাভ করত এবং হঠাত্ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির কাছে লেখা একটি চিঠিতে ব্লিংকেন এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

তালেবান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, আফগানিস্তানে যেসব মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে, তাদের আগামী মাসের শেষের দিকে দেশটি ত্যাগ করার কথা। তবে জানুয়ারিতে, বাইডেন প্রশাসন জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তালেবানের সঙ্গে যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল, তারা সেটা পর্যালোচনা করবে। হোয়াইট হাউজ এখন বলছে, এই সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়ার আগে তারা নিশ্চিত হতে চান যে, আফগান জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের ‘প্রতিশ্রুতি অনুসারে কাজ করছে’ বিশেষ করে সহিংসতা হ্রাস এবং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করছে।

আশরাফ ঘানির কাছে লেখা একটি চিঠিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানে ৯০ দিনের মধ্যে সহিংসতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নতুন আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেন আরো অবনতি না হয়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে সতর্ক করেছেন তিনি। জাতিসংঘকে বলা হবে, সংস্থাটি যেন এই অঞ্চলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বৈঠকে বসে। ঐ চিঠিতে বলা হয়েছে, তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে তুরস্ক সম্ভাব্য স্থান হতে পারে।

বিবিসির সাংবাদিক জানিয়েছেন, সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার ফলে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা এবং আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতন এড়িয়ে যেতে প্রেসিডেন্ট ঘানি এবং তালেবানের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছেন ব্লিংকেন। আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকায় প্রেসিডেন্ট ঘানি শনিবার জঙ্গি সংগঠনটিকে সহিংসতা ত্যাগ করে নতুন করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। ঐ চুক্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়েছে যে, যদি তালেবান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ন্যাটো মিত্ররা ১৪ মাসে সমস্ত সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। ঐ প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, তালেবান তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোয় আল-কায়দা বা অন্যান্য জঙ্গিদের ভিড়তে দেবে না এবং তারা জাতীয় শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। উল্লেখ্য, ঐ চুক্তির পর তালেবান আন্তর্জাতিক বাহিনীর ওপর হামলা চালানো বন্ধ করে দিলেও, আফগান বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে।