ঘুষ দেওয়ার নামে এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে কোটি টাকা ব্যাংক থেকে তুলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা অনুধাবন করে আরো অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে বাণিজ্য সংগঠনগুলোতেও।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রিয়েল এস্টেট ও হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) রাজউক থেকে উত্তরায় জমি কেনে। এরপর বর্ধিত আরো ৯ কাঠা জমি কেনা বাবদ ঘুষ দেওয়ার কথা বলে কর্মকর্তারা সংগঠনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু এই টাকা উত্তোলন কিংবা খরচের জন্য পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেননি। গত ৩০ শে ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে ইস্যুকৃত চেকে স্বাক্ষর করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল ও সহসভাপতি (অর্থ) সোহেল রানা। এই চেকটি নগদ উত্তোলন করা হয় ২ জানুয়ারি ২০১৯ সালে। আজমল নামে রিহ্যাবের এক কর্মকর্তা এই ‘ক্যাশ চেকে’র টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন এবং সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে এই টাকা খরচের ব্যাপারে সাধারণ সদস্যদের অনেকে ব্যাখ্যা দাবি করেন। তাদের মতে, রাজউককে জমি ক্রয় বাবদ টাকা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকে দিতে হতো।
পরবর্তীতে বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গোচরীভূত করা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিরাজুল ইসলাম উকিলকে দিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে এবং তা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।
রিহ্যাবের গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী সভাপতি অতি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারেন। সেটিও পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী সভায় যথাযথ ও প্রকৃত কারণ উপস্থাপন পূর্বক অনুমোদন করানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রিহ্যাবের প্রতিটি কাজ স্ট্যান্ডিং কমিটির মাধ্যমে করা হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ড সভায় অনুমোদন কিংবা বাতিল করা হয়। এক্ষেত্রে বিল্ডিং স্ট্যান্ডিং কমিটিকে না জানিয়েই উক্ত টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। তদুপরি, এ ধরনের জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল, কোটি টাকা নয় বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চালু হলে তড়িঘড়ি করে এক সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। ঐ সভায় ১ কোটি টাকা অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে জানান হয়। এটিও যথাযথ হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে, এ ধরনের অনিয়ম আরো ঘটে থাকতে পারে বিধায় অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেছে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। এদিকে, আর্থিক অনিয়ম বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ, নতুন নির্বাচনের দাবিতেও সাধারণ সদস্যরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলেও মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।