মোবাইল ফোনে সিনেমা নির্মাণে সেরা জারিফ

>> গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত

 

সৃজনশীলতা প্রকাশের নানান মাধ্যম রয়েছে। হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়েই প্রকাশ করা যায় নিজের নির্মাণের সৃজনশীলতা। বিগত সাত বছর যাবত এমনই এক আয়োজন করে আসছে একদল সিনেমাপ্রেমী। প্রতিবছরই মোবাইল ফোনে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মিলনমেলা ঘটে ঢাকা ‘আন্তর্জাতিক মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’।

২০২০ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে হঠাত্ করেই জারিফের চোখে পড়ে মোবাইল ফোনে সিনেমা নির্মাণ বিষয়ক এক কর্মশালার। আগ্রহের জায়গা থেকে ঘরে বসেই জানতে শুরু করে এর টুকটাক বিষয়। কর্মশালার পরেই নির্মাণ করেন নিজের দ্বিতীয় সিনেমা। এবং বিচারকদের রায়ে সেরা নির্বাচিত হয় তার সিনেমা ‘এগোনি’।

মোবাইল ফোনে নির্মিত সিনেমা তাকে এনে দিয়েছে ‘ইউল্যাব ইয়াং ফিল্মমেকার অ্যাওয়ার্ড’। জারিফ এই পুরস্কার অর্জন করেন ওয়ান মিনিট ফিল্ম ক্যাটাগরিতে। জারফি তাশদীদ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। মৌলিক সিনেমা তার পছন্দ। সত্যজিত্ রায় তার প্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা।

বিভিন্ন দেশের ৩৬টি নির্বাচিত চলচ্চিত্র নিয়ে ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উত্সব’-এর সপ্তম আসর। মোবাইল চলচ্চিত্র উত্সবে তার জীবনের বিশেষ ঘটনা জানতে চাইলে জারিফ জানান, যখন জানানো হয় আমি সেরা হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছি সে-ই মুহূর্তটাই আমার কাছে সবচেয়ে বিশেষ এক ঘটনা। নির্মাণ শেষেও বুঝতে পারিনি যে সিনেমাটা আমায় একটা অর্জন এনে দিবে। জারিফের সিনেমা ‘এগোনি’ একজন মা এবং মেয়েকে কেন্দ্র করে। সিনেমাটিতে মেয়েটি একপর্যায়ে আত্মহত্যা করে। মা তার মেয়েকে হারানোর পর থেকে যেন এক কষ্টের জেলে বন্দি হয়ে যান। এভাবেই এক মিনিটের মধ্যে সন্তান হারানোর বেদনা এবং নারীর চাপা সত্ত্বাটি তুলে ধরেছেন জারিফ।

সিনেমাটির আড়ালে থাকা গল্প জানতে চাইলে মুঠোফোনে জারিফ বলেন, সম্প্রতি এক জরিপে দেখায় যায় মহামারি থেকেও গত বছর বেশি প্রাণ ঝরেছে আত্মহত্যায়। একজন নির্মাতা হিসেবে আমি চেয়েছিলাম আমাদের সমাজে মানসিকভাবে বিপর্যয় হওয়া মানুষকে সাহায্য করতে। কারণ বিপদে অবহেলা করে তাদেরকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমি তাদের পরিবার ও কাছের মানুষদের কষ্ট ও বেদনাটি তুলে ধরেছি আত্মহত্যা করার পরবর্তী সময়ের। জারিফের মতে শিল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম সিনেমা। কারণ একটা সিনেমায় চাইলে সবকিছুই এঁটে ফেলা যায়। আগামীদিনে নিজেকে গল্পকার ও নির্মাতা হিসেবে তৈরি করতে চান জারিফ।