নারী ও সহিংসতা—শব্দ দুটির অবস্থান পাশাপাশি। নারী ও নিরাপত্তা—শব্দ দুটি ওতপ্রোত জড়িত হলেও সমাজে নারী আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই। অবাক করা বিষয় হলো—শুধু পুরুষ নয়, নারী আজ কিছু নারীর কাছেও নিরাপদ নয়!
করোনা আমাদের অনেক কিছু শেখালেও নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহনশীল হতে শেখায়নি। করোনার সময়েই সবচেয়ে বেশি নারী সহিংসতার চিত্র দেখা গেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২০৭১৩ জন নারী ও শিশু। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৮৭ ভাগ নারী কোনো না কোনো সময় পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যের দ্বারা সহিংসতার শিকার। স্বামীর অকথ্য গালিগালাজ, মারধর শেষমেশ তালাকের কলঙ্ক। বাবার বাড়ি থেকে শুরু করে প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও অসহনীয় কথার ছুরি চলতে থাকে তালাকপ্রাপ্ত মেয়েটির ওপর। নারীর পোশাক, সৌন্দর্য আরো নানা বর্ণনা দিয়ে নারীকে নির্যাতনের যৌক্তিক কারণ দাঁড় করিয়ে যাচ্ছেন নোংরা মানসিকতার পুরুষগণ। তাহলে বোরখাপরা মেয়েটাও কেন রক্ষা পায় না লালসা থেকে!
এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ভূমিকা রেখেছেন। দেশের জন্য জীবন বিলিয়েও নারী কেন আজো নির্যাতনের শিকার! নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে হলে চাই আইনের কঠোর প্রয়োগ। নারীর ক্ষমতায়ন ও তার যথোপযুক্ত ব্যবহার। অন্যায় ও ন্যায়ের ভেদাভেদ শিক্ষা পরিবার থেকে জোরদার করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থায়ও আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাণীটি স্মরণ করি—‘কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি,/প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে, বিজয়ী লক্ষ্মী নারী।’ এই লক্ষ্মী নারীর প্রতি ঘৃণ্য কামুকতার দৃষ্টি, নানা অনিয়ম, অন্যায় ভেঙে সম্প্রীতির মনোভাব নিয়ে সবাই একসঙ্গে একে অন্যের সহযোগী হয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার মানসিকতা দূর করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে হবে। না হলে ব্যক্তি তথা সমাজ, দেশ মুখ থুবড়ে পড়বে। পিতাগৃহ থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে নারীকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। নিজ ঘরেই (পিতাগৃহ, স্বামীগৃহ) নারী নির্যাতিত হলে নারীর মূল্য আর থাকে না বাহ্যিক জগতে। তাই নারীর প্রতি সহিংসতার শিকড় উপড়ে ফেলতে পরিবার থেকে সমাজ, রাষ্ট্র সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও কঠোর হতে হবে।
হোসনেয়ারা খাতুন
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া