চট্টগ্রাম মহানগরীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হতে আরো দেড় বছর সময় লাগবে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ এ বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি সরকারের কাছে আরো এক বছর সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্পটি নির্মাণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি ও বিশ্ব মহামারি এ কাজে বড় রকমের অন্তরায় হয়েছে। কাজটি শেষ হয়ে এটি চালু হতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগবে বলে আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে এই প্রকল্পের জন্য বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ পর্যন্ত ঘরবাড়ি উচ্ছেদ হচ্ছে না। এ বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতাই প্রকল্পের কাজের একটি বড় সময় নষ্ট করেছে বলে জানান কর্মকর্তারা। ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই বলে এ খাতে আরো ৪০০ কোটি টাকারও প্রয়োজন পড়বে না বলে জানান তারা।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে কাস্টমস হাউজ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যাবে সড়কের মাঝখান দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক সমঝোতা বৈঠক হওয়ায় জটিলতা কেটে গেছে। ফলে ঐ স্থানে কোনো ধরনের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ হবে না। এক্সপ্রেসওয়ে যাবে মূল সড়কের মিডল পয়েন্ট বা মাঝখান দিয়ে। তাই এখানে উচ্ছেদের ক্ষতিপূরণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৪০০ কোটি টাকা সরকারকে দিতে হচ্ছে না। তবে এই স্থানে রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য ৫ থেকে ১০ ফুট করে জায়গা অধিগ্রহণ করা লাগবে। তবে এতে বড় কেনো সমস্যা হবে না। এসব কাজ ও পরিকল্পনা দেখভালের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে দিয়েছে সরকার।
সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী আরো জানান, মহানগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সৈকত এবং এয়ারপোর্ট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির মোট কাজের ৪২ শতাংশ এ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিসহ আরো কিছু প্রতিকূলতায় প্রকল্পের কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। প্রকল্পটি শেষ করে চলাচলের জন্য এ বছরই খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি শেষ হতে আরো দেড় বছর সময় লাগছে। আশা করা যায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশিত প্রকল্পটি চালু করা যাবে। তিনি বলেন, এটি চট্টগ্রামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার প্রাক্কলিত এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলেন, লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত চার লেনবিশিষ্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটার। র্যাম্প, লুপসহ এই এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। বর্তমানে বন্দরের নিজস্ব জায়গা সল্টগোলা থেকে কাস্টমস হাউজ, বারিক বিল্ডিং থেকে দেওয়ানহাটসহ প্রকল্পের চারটি অংশে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নির্মাণকাজ চলছে। বর্তমানে এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর সড়কে যানজটসহ জনচলাচলে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। মহানগরীর আগ্রাবাদ থেকে বিমানবন্দরে যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগছে। কিন্তু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে।