শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শতভাগ শর্ত মানা হয়েছে ------ গিনেস বুকের প্রতিনিধি

কৃষকদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু। সেই স্বপ্নের কারিগরকেই শস্যচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামের বিস্তীর্ণ ধান ফসলের মাঠে। ১০০ বিঘা জমিতে গাঢ় বেগুণী ও সবুজ ধানের পাতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল প্রতিকৃতি। আর শস্যচিত্রে করা বঙ্গবন্ধুর এই প্রতিকৃতিই গড়তে যাচ্ছে গিনেজ রেকর্ড।

গতকাল মঙ্গলবার গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী শস্যচিত্রটি  সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ সাংবাদিকদের জানান, শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ড্রোনের মাধ্যমে দেখলে সহজেই তা বোঝা যায়। তিনি জানান, গিনেজের শর্তমোতাবেক শস্যচিত্রটির সব শর্ত পূরণ হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে গিনেজের প্রধান কার্যালয়ে তারা রিপোর্ট পেশ করবেন।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাতাসে দোল খাচ্ছে গাঢ় বেগুণি ও সবুজ ধানের পাতা। আর এ দুই রঙের ধান ফসলের মাঠে ফুঠে উঠেছে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। দূর-দূরান্ত থেকে উত্সুক মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে আসছে বিশ্বের সর্ববৃহত্ বঙ্গবন্ধুর শস্যচিত্র দেখতে। তবে খালি চোখে শস্যচিত্রটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখা সম্ভব না হলেও উঁচু থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দেখা যাচ্ছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’। এখন গিনেজ কর্তৃপক্ষের ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে এবং বেসরকারি কোম্পানি ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের সহযোগিতায় এই ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ নামে বিশাল আয়তনের এই প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। এটি হবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর এক অনন্য উদ্যাপন। সেই সঙ্গে গোটা বিশে সর্ববৃহত্ ক্রপ মোজাইক বা শস্যচিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর নাম গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাঁই করে নেওয়ায় দেশের জন্য অর্জিত হবে নতুন ইতিহাস।

বাস্তবায়নকারী কোম্পানি ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শস্যচিত্রের আয়তন হবে ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট। দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার এবং প্রস্থ ৩০০ মিটার। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি তৈরি করার জন্য গাঢ় বেগুণি ও সোনালি রং—এ দুই ধরনের ধান বেছে নেওয়া হয়। চিন থেকে এই ধানের জাত আমদানি করা হয়েছে। ভবানীপুর ইউনিয়নের মহিশাচাপর গ্রামের বাসিন্দা কিষানি কল্পনা রানী বলেন, ‘ডিজাইন মোতাবেক বেগুণি ও সবুজ চারা রোপণ করেছি। প্রতিদিন ৩০০ টাকা মজুরিতে এই প্রকল্পে কাজ করে ইতিহাসের সাক্ষী হতে চেয়েছি।’ তিনি জাতির জনকের এই ছবি তৈরির কাজে অংশ নিতে পেরে খুশি। উল্লেখ্য, এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত ধান বিক্রির অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।