রাজধানীর হাতিরঝিলে স্কুলছাত্র ইফরান খান রাকিব হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, প্রভাবশালী মহল হত্যাকাণ্ডকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী দীল মোহাম্মদ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৯ সালের ৬ জুলাই রাকিবকে হত্যা করা হয়। এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও গাফিলতির কারণে এ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হলেও হাতিরঝিল থানার ওসি এজাহার পরিবর্তন করে এটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন। হত্যার পর সাদী নামে এক যুবককে পুলিশ আটক করলেও তার জবানবন্দি না নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এক আসামির মিথ্যা জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেননি।
তিনি দাবি করেন, হত্যায় জড়িতরা রাকিবের গাড়িটি পাঁচ হাজার টাকায় প্রতিদিন ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। তবে তার ছেলে এতে রাজি হয়নি। তাছাড়া ঐ চক্রের মাদক ব্যবসার তথ্যও জানত রাকিব। তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। এর আগেও একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে হাতিরঝিল থানার ওসি আবদুর রশীদ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ফ্লাইওভারের ওপর একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লেগে ঐ ছাত্রের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে সড়ক দুর্ঘটনার মামলা করেন। পুলিশ তার অভিযোগ অনুযায়ীই মামলার তদন্ত করেছে। পরে মামলাটি পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়।
এ প্রসঙ্গে রাকিবের স্বজনরা জানান, পিবিআই-এর তদন্তের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করে পরিবার। ঢাকা সিএমএম আদালত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মামলাটি র্যাব-৩ কে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে রাকিবের মা শিউলী বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।