শহরের ফুটপাতে দোকান বসানোর দাবিতে আন্দোলন করার সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পুলিশের সঙ্গে হকারদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হকাররা টায়ার ও কাপড় জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েক জন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন পথচারী আহত হন। এ কারণে বিকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শহরে সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পরে পুলিশের সাজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গত কয়েক দিন যাবত্ হকাররা আন্দোলন করে আসছে।
বিকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে হকাররা। এ নিয়ে পুলিশ ও হকারের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হকারদের অভিযোগ, ফুটপাতে বসে বিনা বাধায় ব্যবসা করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। আটক করে হকার নেতা আসাদুল ইসলামকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ হকার রাস্তায় নেমে আসে। তারা বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশের অন্তত ১০টি স্থানে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে। পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। অবরোধের খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পুলিশের ধাওয়ায় স্থান ত্যাগ করেন হকাররা। পরে গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড়ে ও নবাব সলিমউল্লাহ সড়কসহ আরো কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে হকাররা।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস চন্দ্র সাহা তাত্ক্ষণিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল থেকে একজন হকার নেতাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে জেলা সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম আটক নেতাকে ছাড়াতে থানায় গেলে তাকেও আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২ মার্চ থেকে পুলিশের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আসছে হকাররা। গত বছর ১৩ ডিসেম্বর ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়।