দখলে অস্তিত্ব হারাচ্ছে চৌমুহনীর সরকারি পুকুরগুলো

চৌমুহনী শহরের সরকারি পুকুরগুলো দখলে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। এসব পুকুরে গড়ে উঠছে দোকানপাট ও বহুতল ভবন। কেউ কেউ এক বছরের জন্য কিছু অংশ বন্দোবস্ত এনে পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। কেউ-বা খেয়ালখুশি মতো পুকুর ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ করছে। এতে একদিকে হারাচ্ছে পুকুর, অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের সময় পানির অভাবে বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌর এলাকায় শতাধিক বড়-ছোট সরকারি পুকুর রয়েছে। তম্মধ্যে ২০টি পুকুর রয়েছে চৌমুহনীতে। সরেজমিনে দেখা যায়, চৌমুহনী পৌর এলাকার বড় মসজিদ সংলগ্ন পুকুর, সিনেমা হল ও রাম ঠাকুর আশ্রম সংলগ্ন পুকুর, করিমপুর, আলীপুরে (কুরীপাড়া) একাধিক সরকারি পুকুরের একাংশ ভরাট করে দোকানপাট ও বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এতে কোনো কোনো স্থানে পুকুরের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে।

চৌমুহনী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবীর ও সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের জানান, সরকারিভাবে মনিটরিং না থাকায় শহরের অনেক পুকুর দখল হয়ে গেছে। এসব পুকুরগুলোতে কয়েক বছর আগেও মানুষ গোসল করত, নানাভাবে ব্যবহার করত। এমনকি চৌমুহনী শহরের কোথায়ও অগ্নিকাণ্ড ঘটলে অগ্নি নির্বাপক দল এসে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু বর্তমানে অগ্নিকাণ্ডের সময় অগ্নি নির্বাপক দল প্রয়োজনীয় পানি না পাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। চৌমুহনী স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম ও আবুল কালাম আজাদ জানান, পুকুরগুলো দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করে পানির উত্স সৃষ্টি করলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

চৌমুহনী পৌর ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন জানান, পুকুরগুলো বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। কীভাবে পুকুরের অংশ বিশেষ এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে (যাতে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে) জানতে চাইলে তিনি ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, চৌমুহনী শহর ও বেগমগঞ্জ উপজেলার সরকারি পুকুরগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই। তবে জলাশয় হলেও শুধু ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেওয়ার একটা বিধান রয়েছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার জানান, জলাশয় ভরাট করা অপরাধ, তার ওপর সরকারি জলাশয় ভরাট করে বা কিয়দাংশ বন্দোবস্ত এনে পাকা ভবন করা যায় না। চৌমুহনী শহরসহ বেগমগঞ্জের সরকারি পুকুরগুলোর খোঁজ-খবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।