বিদেশি পরিচয়ে চাকরি ও ব্যবসার নামে প্রতারণা

বিদেশি পরিচয়ে অনলাইনে সম্পর্ক তৈরি করে চক্রটি। তারপর লোভনীয় চাকরি এবং কোটি কোটি টাকার ব্যবসার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। করোনাকালীন অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে ৮৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি। শেষ পর্যন্ত আতিকুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি টিম। গতকাল মালিবাগে অবস্থিত সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক এ তথ্য জানান। মঙ্গলবার ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের মানিকদি ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো—সাইফুল ইসলাম আরিফ, ওমর ফারুক রনি, আনিছুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম সোহেল।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। ভুক্তভোগী আতিকুর রহমানকে বিদেশি পরিচয় দিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্ব করে উপহার হিসাবে পার্সেলে ইউএস ডলার পাঠানোর কথা বলে চক্রটি। এক পর্যায়ে আতিকুর রহমানের সম্মতি পেয়ে উপহারটি তার নামে বিমানবন্দরে পাঠানোর কথা বলে চক্রটি। সিআইডির কর্মকর্তা বলেন, পরবর্তী সময়ে তাদের সহযোগী কাস্টমস অফিসার পরিচয় দিয়ে আতিকুর রহমানকে ফোনে পার্সেল আসার কথা এবং সেই পার্সেল স্ক্যান করে বিপুল পরিমাণ ইউএস ডলার আছে জানায়। তারা পার্সেল সংগ্রহ, লিগালাইজেশন, ইন্টারন্যাশনাল মর্টগেজের কথা বলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সর্বমোট ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত্ করে। তারা ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান ছাড়াও আরো বেশ কয়েক জনের কাছ থেকে যৌথ ব্যবসার মূলধন সংগ্রহ ও বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রায় ৮২ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মতিঝিল ও লালবাগ থানায় পেনাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত দুটি মামলা অধিকতর তদন্ত করছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অপরাধ স্বীকার করেছে এবং পলাতক অপর আসামি হারুন অর রশিদ কামাল, জসিম সিকদার, হূদয় আহমেদ, মহসিন, ওসমান গণি, আয়েশা আক্তার রত্না, রেহানা আক্তার, মাহমুদুল হাছান, হালিম, কাউছার হাসানসহ দেশি বিদেশিসহ আরো কয়েক জন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানায়।

হাফিজুর রহমান নামে এক প্রকৌশলী জানান, তিনি করোনাকালে ঘরেই বসেছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় অনলাইনে চাকরি খুঁজছিলেন। পরে লিংকইনে ফ্যাডেক নামে একটি কোম্পানির জুনিয়র প্রকোশলী হিসাবে চাকরির অফার দেখেন। সেখানে সিভি দেন। দুই দিন পর ভাইভার জন্য একটি মেইল আসে। নিয়ম অনুযায়ী ভাইভা হয়। কয়েক দিন পর মেইল পাঠিয়ে জানানো হয় তাকে সিলেক্ট করা হয়েছে। এরপর তিনি গুগলে কোম্পানির ব্যাপারে খোঁজ নেন। দেখেন এটা একটা নামি কোম্পানি। আইইএলটিএস স্কোর কতো জানতে চাওয়া হয়। সেটি নেই জানার পর তারা তাকে ৫০০ পাউন্ড স্পোকেন কোর্সের জন্য পাঠাতে বলা হয়। তিনি পাউন্ড পাঠালে এক দিন পর আরো কিছু কার্যক্রমের জন্য ২ হাজার পাউন্ড পাঠাতে বলা হয়। বারবার পাউন্ড চাওয়াতে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতারিত হয়েছেন।