বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রগামী জাহাজ বহরে আরো দুটি নতুন জাহাজ যোগ হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানাধীন এমভি মেঘনা প্রিন্সেস ও এমভি মেঘনা এডভেঞ্চার নামের এ জাহাজ দুটি গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এ নিয়ে দেশের সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ৬৩-তে উন্নীত হলো। নতুন জাহাজ দুটির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর আবু জাফর মো. জালাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সমুদ্রগামী জাহাজ বহরে মাত্র ৬৩টি জাহাজ থাকা যথেষ্ট নয়। পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আমরা আরো ৫০০ থেকে ১ হাজার সমুদ্রগামী জাহাজ যুক্ত করতে চাই। এক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যবসায়ীদেরকে সরকার সবধরনের সহযোগিতা দেবে। বাংলাদেশের নৌপরিবহন খাতে বিশ্বব্যাংক বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখিয়েছে উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এছাড়াও তুরস্ক, চীন, কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এখন বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিতে চায়।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আমরা মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর করতে যাচ্ছি। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যেই আমরা গভীর সমুদ্র বন্দর পেতে যাচ্ছি। নৌপরিবহন খাতে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কিছু দিনের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, মেঘনা গ্রুপ সুদীর্ঘ ৪৫ বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৫০টি কারখানা গড়ে তুলেছেন যেখানে ৩৫ হাজার লোকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, সিমেন্ট, পাওয়ার, স্টিল, শিপবিল্ডিং, কেমিক্যাল, ভারী শিল্পনির্মাণ খাতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। তিনটি অর্থনৈতিক জোন স্থাপন করে ইতিমধ্যে দুটি জোনে দেশি-বিদেশি শিল্প কারখানা পরিপূর্ণভাবে গড়ে তুলেছি আমরা। পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে সমুদ্রপথে আটটি নিজস্ব জাহাজসহ চারটি চার্টার্ড বাল্ক ক্যারিয়ার এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ৩০টি চার্টার্ডসহ ১৪৫টি জাহাজের নৌবহর গড়ে তুলেছি।