বসুরহাটে ১৪৪ ধারা

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভায় গতকাল বুধবার ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। গত মঙ্গলবারের ঐ সংঘর্ষে নিহত আলাউদ্দিনকে বিকালে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ৭০ জন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ সাত জনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা    হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলায় কমপক্ষে ৯৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর ১৪৪ ধারা জারির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বসুরহাট পৌর ভবনে একরামুল করিম চৌধুরী সমর্থিত এক-দেড় শ নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালান। এতে পৌর ভবনে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময়  গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে আব্দুল কাদের মির্জা সমর্থিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সন্ত্রাসীদের গুলিতে  মো. আলাউদ্দিন (২৭) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত ১০ জন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন হূদয়সহ গুলিবিদ্ধ সাত জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীরা এ সময় পৌর মেয়রের কক্ষের গ্লাস ভেঙে ফেলে। পরে বিভিন্ন রাস্তায় গাছ ফেলে অবরোধ করে।

জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় বসুরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ কোম্পানীগঞ্জ থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে ১৪৪ ধারা জারির অনুরোধ করলেও প্রশাসন তা আমলে নেয়নি। ঐ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ রাতেই গোলাগুলির ঘটনায় বসুরহাট ও চাপরাশিরহাট এলাকা থেকে ২৭ জনকে আটক করে। এক জনের  কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, পুলিশের ওপর হামলা, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। ৯৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বসুরহাট বাজারে বর্তমানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান এবং নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করেছেন, ‘পুলিশের সহযোগিতায় সন্ত্রাসীরা পৌরসভায় অতর্কিত গুলি, বোমা বিস্ফোরণ এবং আমাকে হত্যার চেষ্টায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা আমার ব্যক্তিগত অফিসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছবিসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং মূল্যবান কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও কোনো মামলা নেয় নাই।’

পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত সিএনজি অটোরিকশাচালক আলাউদ্দিন চরফকিরা ইউনিয়নের চরকালী গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুমিনুল হকের ছেলে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকালে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।