কালোটাকার সুযোগ সত্ করদাতাদের নিরুত্সাহিত করে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। এজন্য এ ধরনের ঢালাও সুযোগ বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। সিপিডির সিনিয়র রিসার্স অ্যাসোসিয়েট মুনতাসির কামাল বলেন, যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের চেয়ে কালোটাকার মালিকদের কম কর দিতে হচ্ছে। এটি সত্ করদাতাদের মারাত্মকভাবে নিরুত্সাহিত করছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে ঐ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। আলোচনায় অংশ নিয়ে এনবিআরের সদস্য মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কালোটাকা নয়, ‘ধূসর’ টাকা সাদা করা হচ্ছে।
গত বছরের আগ পর্যন্ত একজন নিয়মিত করদাতাকে ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হতো। আর কারো অপ্রদর্শিত অর্থ থাকলে প্রযোজ্য কর দেওয়ার পর ঐ করের ওপর আরো ১০ শতাংশ জরিমানা দিতে হতো। এটি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও অন্তত নিয়মিত করদাতাদের চেয়ে কিছু হলেও বেশি টাকা তাদের দিতে হতো। কিন্তু গত বাজেটে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এই টাকা কোথা থেকে এলো, তা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) কোনো সংস্থাই প্রশ্ন তুলতে পারবে না বলে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। এর ফলে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ কালোটাকা সাদা হয়েছে। অর্থাত্, যেখানে একজন নিয়মিত করদাতাকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে, সেখানে কালোটাকার মালিক ১০ শতাংশ কর দিয়েই টাকা বৈধ করে নিতে পারছেন।
গতকালের আলোচনায় সিপিডি ছাড়াও প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপার্স (পিডব্লিউসি) অংশ নেয়। এ সময় পিডব্লিউসির ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ আয়কর ও ভ্যাট বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি ট্রান্সফার প্রাইস ইস্যুতে ভালো করে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান টিআইএনধারী গাড়ির মালিকদের সঠিক আয়ের তথ্য জানতে এনবিআরের উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে দামি গাড়ি চালান, কিন্তু তারা আমাদের যে আয়ের হিসাব দিচ্ছেন, সেটা অন্য হিসাবের সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করছি।’ বাড়ির মালিকদের দরজায় দরজায় গিয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। হোল্ডিং নাম্বারের তথ্য নিয়ে সিটি করপোরেশনসহ অন্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ চলছে। এছাড়া যারা সঞ্চয়পত্র কিনছেন, তাদের আয় যাচাই করার উদ্যোগ রয়েছে। এজন্য এনবিআরের অটোমেশন শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
সভায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।