ট্রেনে নারীদের জন্য পৃথক কামরা

১৩০ বছর ধরে আইনে থাকলেও বাস্তবায়িত হয়নি হাইকোর্টের রুল জারি

১৩০ বছর ধরে আইনে রয়েছে নারীদের জন্য ট্রেনে পৃথক কামরার ব্যবস্থা রাখার। কিন্তু এতদিনেও আইনের এই বিধান বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন আইনের বিধান বাস্তবায়ন প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে রেলওয়ে অ্যাক্টের ৬৪ ধারা অনুযায়ী ট্রেনে শুধু নারীদের জন্য বিশেষ কামরা বরাদ্দ রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ট্রেনে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস শুনানি করেন।

প্রসঙ্গত, ১৮৯০ সালে প্রণীত রেলওয়ে অ্যাক্টের ৬৪ ধারায় প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য একটি সংরক্ষিত কামরার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। সেই ট্রেন যদি ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণ করে, তাহলে সংরক্ষিত কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার রাখার কথাও বলা হয়েছে। আইনের ১১৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পুরুষ যদি কোনো আইনগত কারণ ছাড়া সংরক্ষিত নারী কামরায় প্রবেশ করে, তাহলে রেল কর্তৃপক্ষ তাকে জরিমানা করতে পারবে, তার টিকিট বাজেয়াপ্ত করে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু আইনের এসব বিধানের প্রয়োগ, বাস্তবায়ন না থাকায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করেন আইনজীবী মমতাজ পারভীন।

শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। রেলসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, রেলওয়ের মহাপরিচালক, ব্যবস্থাপক ও পরিদর্শককে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।