গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অর্থহীনের বেজ বাবা খ্যাত সুমনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সামিতিভেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন তিনি।
জানা গেছে, শারীরিক পরীক্ষা ও কিছু নিয়মিত চিকিৎসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছেন। আর মেরুদণ্ডে সার্জারির জন্য এখনও জার্মানিতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সুমন। কারণ জটিল ও গুরুতর এ অপারেশন অন্য কোথায় হলে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়।
ক্যান্সার থেকে সেরে উঠার পর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অর্থহীন ব্যান্ডের প্রধান বেজ বাবা সুমন। এরপর জটিল অস্ত্রোপচার হয় তার। মেরুদণ্ডের দুটি ডিস্কও পরিবর্তন করা হয়েছিল তখন। তবে নতুন করে এটার সার্জারির জন্যই জার্মানি যাওয়ার কথা তার। কিন্তু করোনার কারণে ভিসা পাচ্ছেন না দেশ সেরা এই শিল্পী। তার শারীরিক অবস্থা এখন গুরুতর। একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে গেছেন তিনি।
বেশ কয়েক বছর আগে চিকিৎসকেরা সুমনের শরীরে দুটি টিউমারের অস্তিত্ব পান। সেসময় জানা যায়, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। তখন ক্যানসারটি প্রথম ধাপে ছিল। এই গায়কের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। এর কিছুদিন পর চিকিৎসকেরা জানান, তার আবার ক্যানসার ধরা পড়েছে। আবারও সার্জারি করা হয়।
২০১৭ সালে সার্জারির পর ব্যাংককে হাসপাতাল থেকে ফিরছিলেন এই গায়ক। এমন সময় হঠাৎ একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সুমনের শরীরে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে ৯টি সার্জারি করা হয়। ওই দুর্ঘটনায় তার স্পাইনাল কর্ডের ক্ষতি হয়। নতুন করে সার্জারির জন্যই দেশ সেরা এই শিল্পীর জার্মানিতে যাওয়া খুব জরুরি।
১৯৮৬ সালে সুমন তার রক সংগীতের জীবন শুরু করেন। এই বছরই সুমন ‘ফ্রিকোয়েন্সি’ নামের একটি ব্যান্ড গঠন করেন। ১৯৯০ সালে ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে সুমন বেস গিটার বাজাতেন। এ বছর সুমনের তার ব্যান্ডের নাম বদলে ‘রক ফ্যান্টম’ রাখেন। ‘সাইল্যান্স’ ব্যান্ডে সুমন লিড গিটারিস্ট হিসেবে যোগ দেন। এর কয়েকদিন পর তিনি ‘ফিলিংস’-এ বেস গিটারবাদক হিসেব বাজানো শুরু করেন। এলাকার স্টুডিওতে বেস গিটারবাদক হিসেবে বাজানো শুরূ করেন। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেইজ, ইন ঢাকা, সুইট ভেনম, রক ব্রিগেডে বেস গিটারবাদক হিসেবে বাজান। এই বছরই তার প্রথম এলবাম ‘সুমন অর্থহীন’-এর কাজ শুরু করেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ