ঝন্টু আঙ্কেলের সঙ্গে কাজ করাটা সৌভাগ্যের

নিজের পরিণত বয়সের প্রথম ছবি নিয়ে নানা তর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী দীঘি। আজ মুক্তি পাচ্ছে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘তুমি আছো তুমি নেই’। কিন্তু ছবির ট্রেইলর নিয়ে খোদ নায়িকাই যখন বিরূপ মন্তব্য করেন তখন তা নিয়েই চলে আলোচনার ঝড়। অতঃপর নির্মাতাও চটে যান। এর প্রেক্ষিতেই দীঘির কথা ও বর্তমান কাজ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন এ এম রুবেল

 

বর্তমানে কয়টি ছবির কাজ চলছে?

বর্তমানে আমার ৩ নম্বর ছবির কাজ প্রায় শেষ। হাতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের কাজ। এছাড়া আরো ৩টি ছবিতে অভিনয়ের কথা চলছে। তবে এখনো চূড়ান্তু হয়নি বলে এ বিষয়ে বলতে চাচ্ছি না। চূড়ান্তু হলে সবাইকে জানাবো।

শুরুতেই এতগুলো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেন। এটা প্রত্যাশিত ছিল কি-না?

আমি কিন্তু একসঙ্গে এতগুলো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হইনি। মিডিয়াতে এটা সংস্থাগুলো প্রচার করেছিল। তারা আমার প্রতি আস্থা রাখতে পেরেছিলেন বলেই হয়তো এমনটা বলতেন। আমি কিন্তু সবসময়ই বলেছি ৫/৬টি ছবিতে কাজের কথা চলছে। আমি আসলে ধীর-সুস্থেই এগিয়ে যেতে চেয়েছি বা এখনো সেটাই চাই।

ট্রেলার বা টিজার একটু এদিক-সেদিক বা খারাপ হলেও অনেকে ভালো বলেন। কিন্তু দীঘির বেলায় উল্টোচিত্র দেখলাম। এটা প্রফেশনাল আচরণ, নাকি দীঘি এমনই?

দীঘি এমনই! যে বিষয়টি আমার ভালো নাগে না সেই বিষয়টি লুকাতে আমার খুব সমস্যা হয়। লুকাতে পারি না, মুখের ওপর বলে দিই। যদিও এর জন্য নানা ধরনের কথা শুনতে হয়। অনেকে পছন্দ করেন না। আর ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ছবিটির ডাবিংয়ের সময়ও কিন্তু সবকিছুই ভালো ছিল। এরপর আমরা প্রায় ১ মাস অপেক্ষা করেছি তারা কীভাবে ট্রেলার বা পোস্টার তৈরি করছে সেটা জানার জন্য। কিন্তু সত্য বলতে আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বা দেখানো হয়নি। আমার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি হিসেবে আমি যোগাযোগ করার চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ। পরে যখন ট্রেলার রিলিজ হলো তখন দেখে সত্যি অবাক হয়ে যাই!  

দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর মতো একজন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু অনেকেই আপনার প্রথম ছবির কো-আর্টিস্ট নিয়ে সমালোচনা করছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

দোলোয়ার আঙ্কেল নিঃসন্দেহে একজন গুণী পরিচালক। ছোটবেলায় ওনার সঙ্গে কাজের সুযোগ না হলেও উনি যখন বলেছিলেন দীঘিকে নিয়ে আমার শেষ ছবি নির্মাণ করবো তখন অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছিল। এছাড়া ওনার সঙ্গে আমার বাবার সম্পর্কও কিন্তু অনেক ভালো। আমার সৌভাগ্য তার মতো পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করতে পেরেছি। আর কো-আর্টিস্ট প্রসঙ্গে বলবো, নায়িকা হিসেবে আমি নিজেও তো নতুন। আমাকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট চলছে। আমাকে এত ভরসার কিছু নেই। তাই আমার মনে হয় নতুনদের সঙ্গে কাজ করা খারাপ না।

আপনার মন্তব্যকে ঘিরে অনেক ট্রল হয়েছে। এতে দীঘির প্রতি মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যাবে বলে মনে করছেন না?

না, বিষয়টি তেমন না। আমি বললাম আপনারা হলে গিয়ে ছবিটি দেখুন, অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু তারা হলে গিয়ে দেখলেন আমার কথার সঙ্গে কোনো মিল নেই। তখনও তো আমার প্রতি তাদের বিশ্বাস ভেঙে যাবে। যেহেতুে ছবিটি আমি এখনো দেখিনি, তাই তাদের বিশ্বাস ভাঙতে চাই না। সত্য কথা বললে নিশ্চয় তারা আমার পাশেই থাকবেন, এ বিশ্বাস আমার রয়েছে।

আপনার প্রথম চুক্তিবদ্ধ হওয়া ছবি ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ মুক্তি পাচ্ছে এ মাসেই। ছবিটি মুক্তিতে একটু তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে বলে মনে করেন কি-না?

না, এ বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করা হয়নি। সবসময়ই ছবিটির কাজ ও মুক্তির বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম। শুধু শেষের দিকে একটু সমস্যা হয়েছে যে, ছবিটি আমরা বসে যে একটু দেখবো সেই সময়টা হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে এই ছবিটির সব কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে। 

এ যে আর্টিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগের একটা ঘাটতি, এটা নতুন ইন্ডাস্ট্রির সংকট কি-না?

হ্যাঁ, নিশ্চয় এটা এক ধরনের সংকট। আমি সবসময়ই বলেছি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলোর জন্যই হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে এই সমস্যাগুলো ঠিক হয়ে গেলে সবকিছু আপনা-আপনি পূর্ণ হয়ে যাবে।