নদীদূষণ নিয়ে প্রতিক্রিয়া

দেশব্যাপী নদীদূষণ চলছেই। নদীদূষণ ঠেকাতে করণীয় কী সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

 

মাত্রাতিরিক্ত দূষণ ও দখলের কারণে নদীমাতৃক বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নদী পুরোপুরি অস্তিত্ব হারিয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি, শিল্প ও রাসায়নিক বর্জ্য, বিভিন্ন নৌযানের পোড়া তেল এবং অপচনশীল পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণকে ত্বরান্বিত করে উদ্বেগজনক হারে কমাচ্ছে নদনদীর গভীরতা। আবার দখলদারদের দৌরাত্ম্যও দূষণের অন্যতম কারণ। দূষণের ফলে নদীনির্ভর মানুষের আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার পাশাপাশি দেশের জাতীয় আয়, জলজ জীব ও রূপবৈচিত্র্যের ওপরও পড়ছে চরম নেতিবাচক প্রভাব। অবস্থার উত্তরণে আইনের কঠোর প্রয়োগে নদীগুলোকে দখলদারমুক্ত, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইটিপি সম্পূর্ণ কার্যকর করা এবং যে কোনো বর্জ্য নদীতে না ফেলার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে? তাছাড়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নদীর দূষণ রোধে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

আবু ফারুক

বনরূপা পাড়া, সদর, বান্দরবান।

 

বাংলদেশের প্রধান নদনদীর দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এসব নদীর পানিতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রার ভারী ধাতু পাওয়া যাচ্ছে। মূলত নদীগুলোর তীরে গড়ে ওঠা বেশির ভাগ শিল্পকারখানা তাদের বর্জ্য পরিশোধন না করে নদীতে ফেলছে। কৃষিকাজে ব্যবহূত হওয়া মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশকও সেচের পানির সঙ্গে ধুয়ে নদীতে পড়ছে। হাটবাজার, শহর ও বস্তি এলাকার গৃহস্থ বর্জ্য ফেলার সবচেয়ে বড় ভাগাড়ও এই নদী। তাই নদীদূষণ রোধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সরকার কর্তৃক কঠোর নীতিমালা প্রণয় করে সেগুলো প্রয়োগ করতে হবে।

মাশুকুর রহমান (রাসেল)

রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার প্রয়োগ, কীট ও বালাইনাশকের ব্যবহার, মানব-বসতির গৃহস্থ বর্জ্য নদীতে নিক্ষেপ প্রভৃতি কারণে দেশ জুড়ে নদীসমূহ ক্রমান্বয়ে পরিণত হচ্ছে বর্জ্যের ভাগাড়ে এবং দূষণের খনিতে। দেশের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে দূষণের নিষ্ঠুর বাস্তবতা থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় সাধনপূর্বক যথোচিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। এছাড়া নদীতে প্লাস্টিকের বর্জ্য নিক্ষেপ, কৃষিকাজে অত্যধিক পরিমাণে সার ও কীটনাশকের প্রয়োগ, অপরিকল্পিত নদী খনন, নদী দখল ইত্যাদি রোধকল্পে নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টি, আইনি কাঠামো গঠন ও পরিপালন বিশেষভাবে জরুরি। সর্বোপরি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে একটি স্বাধীন, কর্যকর ও সক্রিয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

ওয়ারেছ আলী খান

সদর, নরসিংদী

নদীতে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা, দূষণমুক্ত রাখা এবং দখল রোধে জড়িত আছে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। নদীর অবৈধ দখল ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে আরো আছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। তবুও রক্ষা পাচ্ছে না নদীর দখল ও দূষণ। নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের সব ব্যবস্থা নিতে হবে পরিবেশ অধিদপ্তরকে। আর জলাভূমির লিজ বন্ধ করতে হবে ভূমি মন্ত্রণালয়কে।  নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখলদার চিহ্নিতকরণ, দখলদার উচ্ছেদ ও নদী উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মো. জিল্লুর রহমান

ঢাকা।

দেশব্যাপী নদীদূষণ চলছেই । নদী যেন বর্জ্য ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনার পচা পানির উত্কট গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটিই প্রত্যাশা।

মোহাম্মদ ইফতেখার হোসাইন লিটন

হাইমচর, চরভৈরবী

নদীর পানি, নদীর গভীরতা, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নদীর দুই পাড় দখল এবং সৌন্দর্য রক্ষায় যেসব আইন রয়েছে সেসব বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। ভুয়া দলিল-দস্তাবেজের মাধ্যমে যে সকল ভূমিদস্যু ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেন, তাদের চিহ্নিত করা এবং নদীর পরিবেশ রক্ষার জন্য অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষের এবং অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে আইন প্রয়োগ করে দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধার করতে হবে।

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ

দেশ জুড়ে নদীদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নদীর এই দূষণ রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ একান্ত জরুরি। নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা কারখানাগুলোকে কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্য পরিশোধন করার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকদের অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক নির্ভর না হয়ে জৈবসার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা গেলে দূষণের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে। নদী তীরবর্তী জনগোষ্ঠীকে নদীতে অবিবেচনাসুলভ গৃহস্থালির বর্জ্য নিক্ষেপে নিরুত্সাহিতকরণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নদীপথে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীসহ কেউ যাতে খাবারের উচ্ছিষ্ট, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ইত্যাদি নদীতে নিক্ষেপ না করে সে ব্যাপারে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। প্রচলিত পানি (প্রতিরোধ ও দূষণ) আইন কার্যকরী উপায়ে প্রয়োগ করে আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে নদীদূষণ রোধ করা সম্ভব হবে। সঙ্গে সঙ্গে দখলবাজ নদীখেকোদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে গ্রেফতারের বিষয়টিকেও সরকারের বিবেচনায় রাখতে হবে।

মনিরুল হক রনি

সাভার, ঢাকা।

দেশব্যাপী নদীদূষণ চলছেই। বহু অভিযান আর নানান কর্মসূচি দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। নদীদূষণ বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ একান্ত জরুরি।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তুরাগ, বুড়িগঙ্গা,  ব?্রহ্মপুত্র—এসব নদনদীতে অতিমাত্রায় ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দূষিত হয়ে নদীর পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নদীদূষণ প্রতিরোধে কোনো নদীতেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। নদীর তীর অবৈধ দখলমুক্ত করে নিয়মিত খনন করতে হবে।  নদীদূষণ প্রতিরোধে নদী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

ঢাকাসহ সারা দেশে নির্বিচারে নদীদূষণ চলছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো অচিরেই কার্যকরী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়ে না এলে, হুয়াংহো যেমন চীনের দুঃখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে, তেমনি বুড়িগঙ্গাসহ অন্যান্য নদী আমাদের দুঃখ হয়ে দাঁড়াবে।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

দিন দিন নদীদূষণ বেড়েই চলেছে এবং মারাত্মক অবস্থা সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রথমেই নদী দখলকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। নদী দখলকারীরা যে দল বা মতের অনুসারী হোক না কেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

 আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌ. হিফজু

রাজশাহী

আমাদের দেশে নদীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । দেশব্যাপী নদীদূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন নদী, খাল অবৈধভাবে দখল করা হচ্ছে । দেশে নদী রক্ষায় আইন-কানুন রয়েছে, সেই আইন-কানুনকে আরো কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

মেজবাহউদ্দিন সেলিম

ঢাকা ক্যান্ট. ঢাকা।

নদীদূষণ বন্ধ করতে হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনকানুন তৈরি করতে হবে। এবং সেই আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

সাইফুল ইসলাম তানভীর

গুলশান, ঢাকা।

দেশের বহু স্থানে নদীদখলের মহোত্সব চলছে। নদীদখল করে সেখানে বহুতল ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা চাই নদীদূষণ ও নদীদখল—দুটোই বন্ধ হোক।

মাসুদ-উজ-জামান

চানখাঁর পুল,ঢাকা।

প্রতিদিন লাখ লাখ টন শিল্পকারখানার বর্জ্য, গৃহস্থালির পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে তা দূষিত করা হচ্ছে। আবার অবৈধ দখলদাররা নদী ও খাল ভরাট করে এবং গতিপথ পালটে নদী হত্যার মতো দুষ্কর্মে লিপ্ত। নদীদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবে আক্রান্ত হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে কেবল জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে নদীগুলোকে দূষণের কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ি, চট্টগ্রাম।

জীববৈচিত্র্যের অন্যতম আধার দেশের সহস্রাধিক নদনদী; কিন্তু আমাদের চরম অসচেতনতা এবং নানামুখী আইনবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ডের দরুন দূষণের শিকার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো ক্রমশ তাদের স্বকীয়তা হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির ঘাটতিতে দূষণ ও দখল প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। নদী রক্ষায় প্রণীত আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মনোযোগী হতে হবে।

এ এফ এম সালাহউদ্দীন

বান্দরবান

নদীর জীববৈচিত্র্য এবং স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সময়ের দাবি। নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণে যে সকল পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে- নদীর সীমানা নির্ধারণ করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা, যে সব স্যুয়ারেজের পানি ও কলকারকানার তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে সে সব বন্ধ করা, নদী কমিশন গৃহীত সুপারিশ ও প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আরো সক্রিয় করা, দেশের সব নদীবন্দর থেকে ও সব নৌযান থেকে দূষিত তেল, ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করা, স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং বিভিন্ন সময়ে নদীদূষণ এবং দখলের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছে তা যথাযথ বাস্তবায়ন করা।

কামরুজ্জামান

শ্রীপুর, গাজীপুর।

নদীমাতৃক আমাদের দেশ। নদীই আমাদের প্রাণ। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। একশ্রেণির লোক নদী দখল আর নদীদূষণে ব্যস্ত রয়েছে। এদের দমন করতে হবে। তবেই বাঁচবে আমাদের নদী।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদী দখল, দূষণ ও ভরাট হচ্ছে। যারা এসব অবৈধ কাজ করছে, তারা অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। যারা আইন অমান্য করছে, তাদের শাস্তির আওতায় না আনতে পারলে নদী দখল চলতেই থাকবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

নদীদূষণ, নদীদখল, নদীভরাট—এই তিনটি একই সূত্রে গাঁথা। যত্রতত্র নদীদূষণ যাতে না হয়, সেদিকে সবার সুদৃষ্টি কামনা করছি।

প্রহরী মনিরুজ্জামান

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

নদী আমাদের সম্পদ। নদী রক্ষায় প্রণীত আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা