‘সু চি অবৈধভাবে ৬ লাখ ডলার ও ১১ কেজি স্বর্ণ নিয়েছেন’

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির ক্ষমতা থেকে উত্খাত হওয়া ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা এনএলডির নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৬ লাখ ডলার অর্থ ও সোনা গ্রহণের অভিযোগ এনেছে। গত পহেলা ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর এটাকেই তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর আনা সবচেয়ে শক্তিশালী অভিযোগ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে গতকালও দেশটিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে গুলি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী যাতে নিহত হয়েছে আট জন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে অং সান সু চির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে লাইসেন্সবিহীন রেডিও যন্ত্রসামগ্রী সঙ্গে রাখা, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গ করা এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। কিন্তু এবার তার বিরুদ্ধে নতুন এই গুরুতর অভিযোগ আনলেন সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ঝাউ মিন তুন। সেনাবাহিনীর অভিযোগে বলা হয়েছে সু চি যে স্বর্ণ গ্রহণ করেছেন তার মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ লাখ পাউন্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, ইয়াঙ্গুনের আঞ্চলিক মন্ত্রী ফিউ মিন থেইন জানিয়েছেন যে, তিনি অং সান সু চিকে নিজে নগদ ৬ লাখ ডলার অর্থ এবং স্বর্ণ দিয়েছেন। এসব দেওয়া হয়েছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাসের মধ্যে। ঐ মুখপাত্র সু চির দল এনএলডির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছেন, যেসব প্রতিবাদকারী নিহত হচ্ছে তাদের মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী। কারণ দলটি তাদেরকে রাস্তায় নেমে আসার জন্য উসকানি দিচ্ছে। পহেলা ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর সু চিকে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে এবং তার দলের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাইকেই আটক করে রাখা হয়েছে।

ফের গুলি, নিহত ৮

দেশটিতে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ এবং সৈন্যরা গতকালও বেশ কয়েকটি শহরে এরকম বিক্ষোভের ওপর গুলি চালালে অন্তত আট জন নিহত হয়েছে। অনেকের গুলি লাগছে মাথায়। এ যাবত্ ৬০ জনের বেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে মনে করা হচ্ছে যে আন্তর্জাতিক সমালোচনা উপেক্ষা করে হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি চালানো হচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে এর সমালোচনা করা হয়েছে। তবে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে উলটো সহিংসতার জন্য অং সান সু চিকেই তারা দায়ী করছে। অন্যদিকে সামরিক জান্তার সরকার রাখাইনের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) নাম ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। গতকাল দেশটির সরকার পরিচালিত মিরর ডেইলির প্রতিবেদনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।