আমাদের লেখার প্রচলিত ভুল

মো. রহমত উল্লাহ্

 

 

আমাদের বাংলা ভাষায় প্রচলিত ভুলের সংখ্যা অনেক। প্রতিনিয়ত এসকল ভুল দেখে দেখে আমরা এতটাই অভ্যস্ত যে, অনেকেই মনে করি, ভুলটাই সঠিক। তাই নিজেরাও করে থাকি সেই ভুল। অথচ এসব সাধারণ ভুলের অধিকাংশ পরিহার করে শুদ্ধভাবে লেখার জন্য খুব বেশি জটিল ব্যাকরণ জানার ও প্রয়োগ করার প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে সামান্য সচেতন হলেই যথেষ্ট। এমন কিছু  প্রচলিত ভুল নিয়ে এই আলোচনা। আজকের বিষয়: ঈ-কার না কি ই-কার?

টেলিভিশনের পর্দায় যখন প্রতিদিন দেখানো হয়, নাটকের/ অনুষ্ঠানের বাকী অংশ প্রচারিত হবে ইংরেজী সংবাদের পর। তখন আমরা ‘বাকি’ ও ‘ইংরেজি’ শব্দ দু’টি যে ই-কার দিয়ে লেখা সঠিক তা শিখতে ও মনে রাখতে পারি না।

‘রুমী, সুমী, টমী, নকী, লাকী, ফেন্সী, লাভলী, রহীম, শাহ্জী, ফরাজী’ এভাবে ঈ-কার দিয়ে যাদের নাম ভুল লেখা হয়, তারা এবং তাদের পরিচিতরা সহজে মেনে নিতে চায় না যে, এ সকল শব্দের বানান ই-কার দিয়ে শুদ্ধ করে ‘রুমি, সুমি, টমি, নকি, লাকি, ফেন্সি, লাভলি, রহিম, শাহি্জ, ফরাজি’ এভাবে লিখতে হবে।

 

সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে ভুল করে যদি ঈ-কার দিয়ে ‘সরকারী’ ‘বেসরকারী, লাইব্রেরী, ল্যাবরেটরী, খ্রীস্টাব্দ, শ্রেণী, ডিগ্রী’ লেখা হয় তো ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্যরা এই ভুলকে শুদ্ধ মনে করতেই পারে। অথচ ‘সরকারি, বেসরকারি, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি,  খ্রিষ্টাব্দ, শ্রেণি, ডিগ্রি’ লেখাই সঠিক।

মক্তবে-মাদ্রাসায় যদি ‘আর্বী, ফার্সী, পাঞ্জাবী, পাগড়ী, গেঞ্জী, মুন্সী, মৌলভী, ‘শেরওয়ানী’ কওমী, ইসলামী, কুরবানী, এবতেদায়ী, ফুরকানী এভাবে বানান শেখানো হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা জানবে কীভাবে?