n আবুল কাসেম ভূঁইয়া
দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন ফলের চাষ হচ্ছে। আগে যে সমস্ত ফল বিদেশ থেকে আমদানি করে আনা হত, এখন সেসব ফল আমাদের দেশে ব্যাপক ভিত্তিতে চাষ করা হচ্ছে। এতে করে দেশের মানুষ কম দামে বিদেশি ফলের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন। বর্তমানে আমাদের দেশে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উত্পাদিত ফলের মধ্যে ভিয়েতনামের লাল জাতের কাঁঠাল উত্পন্ন হচ্ছে। যদিও এই লাল জাতের কাঁঠাল সীমিত আকারে চাষ হচ্ছে। যার ফলে এই কাঁঠাল সম্পর্কে দেশের মানুষ তেমন অবগত নন। ভিতেনামের লাল জাতের কাঁঠাল পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সুফল মিলেছে। এই কাঁঠাল চাষের জন্য বাংলাদেশের মাটি এবং জলবায়ু খুবই উপযোগী। অনেক উত্সাহী চাষি তাদের বাগানে এই লাল জাতের কাঁঠালের চাষ শুরু করেছেন। এই কাঁঠাল খেতে বেশ সুস্বাদু এবং খুবই মিষ্টি। এই কাঁঠালের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এই কাঁঠালে কোনো আঠা থাকে না। আমাদের দেশে এই কাঁঠাল আকারে ছোট হয়ে থাকে। কাঁঠালের দাম তিন চার গুণ বেশি হয়ে থাকে। এই কাঁঠাল চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এর বারো মাসি জাত রয়েছে। প্রতিকূল অবস্থায়ও বাংলাদেশ কাঁঠাল উত্পাদনকারী দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ভারত রয়েছে প্রথম স্থানে। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং নেপালের অবস্থান যথাক্রমে ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম। বাংলাদেশে অতি প্রাচীন কাল থেকে সাধারণত খাজা, আদারসা ও গালা নামে তিন ধরনের কাঁঠালের চাষ হয়। কিন্তু বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল জাতের দুইটি কাঁঠাল বারি কাঁঠাল-১ এবং বারি কাঁঠাল-২ বালাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করেছে। তবে এসব হাইব্রিড জাতের কাঁঠালের তুলনায় ভিয়েতনামী লাল কাঁঠাল অন্যতম। এই কাঁঠাল গাছ জমিতে, ছাদে বা ড্রামে বর্ষায় অথবা পানি জমে না এমন স্থানে লাগাতে হবে। কাঁঠালের বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়। কিন্তু কলমের চারা থেকে ফলন ভালো হয়। গুটি কলম, ডাল কলম, চোখ কলম, চারা কলমের মাধ্যমেও চারা তৈরি করা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন নার্সারীতে ভিয়েতনামী লাল কাঁঠালের চারা কিনতে পাওয়া যায়। এই লাল কাঁঠাল গাছ বাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদে ড্রামে, পুকুরপাড়ে বাণিজ্যিক বাগানে লাগানো যায়। উন্নতমানের চারা দেখে জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে রোপণ করতে হবে। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১২ মিটার রাখলে ভালো হয়। চারা রোপণের পর এর সুষ্ঠু পরিচর্যা করা ছাড়া আর কিছুই করতে হয় না। কলমের চারা থেকে দ্রুত ফলন আসে।