লালমোহনে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চলছে মাছ ধরার মহোত্সব

গভীর রাতে ঘাটগুলো থাকে সরগরম

প্রশাসনের খবরদারি নেই

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে সব রকম মাছ ধরার মহোত্সব। দিনের বেলায় নদীতে কমসংখ্যক জেলের দেখা মিললেও রাতে নদীপাড় থাকে আনন্দমুখর। রাত পোহাবার সঙ্গে সঙ্গে জেলেপল্লিগুলো হয়ে ওঠে সরগরম, চলতে থাকে হাঁক-ডাক। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই উপজেলার অন্তত ২৫টি ঘাটে দৈনিক লাখ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হয় বলে জানা যায়। আহরিত মাছের অর্ধেক বিক্রি হয় স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে। বাকি মাছ সড়কপথে দিনের আলোতেই চালান হয় ঢাকা-বরিশালে। মত্স্য প্রশাসনের অপর্যাপ্ত লোকবল আর গাটছাড়া অভিযানের সুযোগে এই উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবাধে নিধন হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

সূত্র জানায়, মেঘনা নদীর কামারের খাল, কাঠির মাথা, নুরুল্লা, কোপখালী, বুড়ির দোন, চোরার খাল, সরকারের খাল বেতুয়া স্লুইস এবং তেঁতুলিয়া নদীর পাঙ্গাসিয়া স্লুইস, গজারিয়া খালগোড়া, গাইমারা, বিশ্বাসের পাড়, বেড়ির মাথা, নাজিরপুর, লাঠিয়াল বাজার, দেবিরচর ও রুজিনা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মণ বিভিন্ন ধরনের মাছ বিক্রি হয়। এসব ঘাটের দূরত্ব উপজেলা সদর থেকে ১০-১৫ কিলোমিটারের বেশি নয়। অথচ প্রশাসনের কোনো অভিযান দেখা যায় না এসব ঘাটে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস বলেন, আমার অফিসে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছাড়া আর কোনো লোকবল নেই। যার কারণে ঠিকমতো অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। তারপরও সাধ্যমতো অভিযান চলছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে পহেলা মার্চ থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সাত জন আটক আর কয়েক শ মিটার জাল পোড়ানো ছাড়া কিছুই করতে পারেনি উপজেলা মত্স্য প্রশাসন।