সিলেটে সাড়ে ৩ হাজার নারী নির্যাতন মামলা

সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মামলা বিচারাধীন। ফলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির অন্ত নেই। এর মধ্যে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন মামলা। করোনার সময়ও নারী নির্যাতন থেমে নেই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৩৮টি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত দাখিল হয় ৬৪টি মামলা। সব মিলিয়ে মামলার সূচক ঊর্ধ্বগতির দিকে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা মুকুল বলেন, সিলেটে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। সিলেটে একটিমাত্র ট্রাইব্যুনালের কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে অনেক নির্যাতনের শিকার মামলায় যেতেও আগ্রহী হন না। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সিলেটে একাধিক ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের ওপর জোর দেন এ নারী অধিকার কর্মী।

সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু জানান, সেখানকার নারী নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন গত ৮ মার্চ একসঙ্গে ৬৫ মামলার রায় দেন। এর মধ্যে ৫৪টি মামলা রায়ে আপসের মাধ্যমে স্বামীর ঘরে ফেরেন তাদের স্ত্রীরা। একই বিচারক এর আগেও আরো ৪৭টি মামলার অনুরূপ রায় দেন। অবশ্য এই দুটি রায় ছিল ব্যতিক্রমী এবং প্রশংসনীয়। সুনামগঞ্জ জেলায়ও বিদ্যমান একটিমাত্র ট্রাইব্যুনাল মামলা নিষ্পত্তির জন্য অপ্রতুল বলে জানান এ আইনজীবী।

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলায় তিনটি নারী নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল             রয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমদ ইকবাল জানান, সেখানে বর্তমানে তিনটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নারী নির্যাতনের মামলাসমূহ নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এতে বিচারপ্রার্থীদের অনেকটা সুবিধা হচ্ছে।

এদিকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বর্তমান বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের বাইরে আরো দুটি আদালতের দায়িত্ব পালন করছেন। আদালত দুটি হচ্ছে :অতিরিক্ত বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও শিশু আদালত। এমতাবস্থায় সিলেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরে একটিমাত্র ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সময়মতো বিচারকাজ সম্পাদন করা কত যে দুরূহ হয়ে উঠেছে, তা আদালত সংশ্লিষ্টরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

‘শুরু থেকেই সিলেট নগরী ও জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা একটিমাত্র ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে। ফলে মামলাজট লেগেই থাকছে। বিচার প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হচ্ছে’—বলেছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানে সিলেটে একাধিক ট্রাইব্যুনাল স্থাপন জরুরি। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম সমিউল আলম বলেন, একটি ট্রাইব্যুনালের কারণে মামলাজট ও বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ।

করোনার মধ্যেও সিলেটে নারী নির্যাতনের ঘটনা থেমে নেই :অন্যদিকে করোনা মহামারির মধ্যেও সিলেটে নারী নির্যাতনের ঘটনা থেমে নেই। ২০২০ সালে এমসি কলেজের চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলাসহ সিলেট নারী নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ৬৫০টি মামলা দাখিল হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারিতে ১০০টি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৫৮টি করে মামলা দায়ের হয়। করোনার ব্যাপক সংক্রমণের সময় এপ্রিল-জুন মাসে মামলা দাখিল না হলেও ঐ বছরের জুলাই মাসে ২৫টি, আগস্টে ৫৮টি, সেপ্টেম্বরে ১০০টি, অক্টোবরে ১৩৫টি, নভেম্বরে ৮১টি এবং ডিসেম্বরে ৩৪টি মামলা দাখিল হয়।