কুমিল্লা নগরীতে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড!

যান চলাচলে বিঘ্ন

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা চিকিত্সক ও রোগী বা তাদের স্বজনদের গাড়ি রাখার পার্কিং নেই। ফলে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিক ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, অভিজাত মার্কেটের সামনের জনাকীর্ণ ব্যস্ততম সড়কেই অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এভাবে নগরীর সড়ক দখল করে যত্রতত্র সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিন যানজটের কবলে পড়ে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনের সড়ক দখল করে বোর্ডে প্রবেশের প্রধান ফটকের সামান্য অংশ ফাঁকা রেখে সারিবদ্ধভাবে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে রাখা আছে। এছাড়া আশপাশে প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য গাড়িও রয়েছে। গুণে দেখা গেছে, বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনের দক্ষিণ অংশের (বাঁ পাশে) সড়কে ১৪টি ও উত্তর অংশে (ডান পাশে) ১১টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এসব অ্যাম্বুলেন্সের চালকেরা জনগণের চলাচলের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে খোশগল্প করছেন। কেউবা টং দোকানে চা-পান খাচ্ছেন। আবার কেউ সেলফোনে কথা বলে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলে যাচ্ছেন। মাহে আলম, আমিন মিয়া, আলী আজগরসহ অ্যাম্বুলেন্সের অন্তত ছয় জন চালক বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের সন্নিকটে কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে।

এছাড়া সদর হাসপাতাল ও হাসপাতালের সামনের সড়কের দুই পাশে রয়েছে ডজনাধিক প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক। এসব প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই রোগী আনা-নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সড়কের পাশেই রাখতে হচ্ছে, তবে এটা অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড না।’ জেলার চান্দিনা উপজেলার বিচুন্দাইর গ্রামের প্রবাসফেরত শাহ আলমসহ কয়েক জন পথচারী ও রোগীর স্বজন জানান, ‘যেখানে হাসপাতাল আছে সেখানেই অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা। কিন্তু এ সড়কে চলার পথে এক নজরে যে কারো মনে হবে সারিবদ্ধ অ্যাম্বুলেন্সের পাশের ঐ দৃষ্টিনন্দন ভবনটি হয়তো কোনো বিশেষায়িত বড় হসপিটাল। বাস্তবে তা নয়। সাইন বোর্ডের লেখা পড়ে জানলাম ভবনটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা। এতে শহরে রোগী নিয়ে আসা দূরবর্তী জেলা-উপজেলার অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত হতে হয়।’ এছাড়াও নগরীর শাসনগাছা, রেইসকোর্স, পুলিশ লাইন, ঝাউতলা, কান্দিরপাড়, নজরুল অ্যাভিনিউ, চকবাজার, মনোহরপুর, টমছমব্রিজ, শাকতলা, ইপিজেড রোড, কুচাইতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যস্ততম সড়কেও অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

কুমিল্লা নাগরিক ফোরামের সভাপতি মো. কামরুল আহসান বাবুল বলেন, ‘নগরীর আনাচে-কানাচে প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকের ছড়াছড়ি। তবে হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র দেওয়ার সময় পার্কিং ব্যবস্থা আছে কি না, তা দেখা হয়েছে বলে মনে হয় না। তাই এগুলো অবৈধভাবে সড়ক দখল করে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে এ ধরনের গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা প্রয়োজন।’ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস ছালাম বলেন, ‘বোর্ডের সামনের সড়ক দখল করে অ্যাম্বুলেন্সের অঘোষিত স্ট্যান্ড বানিয়ে রাখা বেমানান ও অস্বস্তিকর। এছাড়া এখানে সিটি করপোরেশনের একটি ডাস্টবিন থেকে দিনে-রাতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে দম বন্ধ করে জনগণকে চলাচল করতে হয়। অবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্স-গাড়ি পার্কিং ও ডাস্টবিন অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘নগরীর সড়কে যেখানে সেখানে অ্যাম্বুলেন্স বা প্রাইভেট গাড়ি রাখার বিষয়টি নজরে এসেছে। এগুলো যানজট সৃষ্টি করে মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকের পার্কিং ব্যবস্থা নেই তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’