যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, এশিয়ায় চীনের প্রভাব ঠেকাতে এবং মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল অক্ষুণ্ন রাখতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে ‘কোয়াড’ জোটভুক্ত চার দেশ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত। চীনের বিষয়ে এই দেশগুলোর যে কোনো মোহ নেই—সেটা স্পষ্ট হয়েছে। শুক্রবার এই চার দেশের শীর্ষ নেতাদের ভার্চুয়াল সামিট শেষে হোয়াইট হাউজে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।
এক দশকের বেশি আগে কোয়াড প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে শুক্রবার প্রথম সদস্যভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। ঐ বৈঠকে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা।
ব্রিফিংয়ে সুলিভান বলেন, চলতি বছরের শেষে চার নেতা সশরীরে উপস্থিত থেকে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের স্বাধীনতা, দক্ষিণ চীন সাগরে জবরদখল থেকে স্বাধীনতা, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ইস্যু, মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থান ও বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা করেন। চীনের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার নেতা জোর দেন। তারা স্পষ্ট করেছেন, চীনের ব্যাপারে তাদের কোনো মোহ নেই।
যদিও আগামী সপ্তাহেই চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ও সিপিসির পলিটব্যুরোর সদস্য ইয়াং জিয়েচির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুলিভান। এ বিষয়ে সুলিভান বলেন, কৌশলগত পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে অগ্রসর হতে চায় সেটি চীনা সরকারকে স্পষ্ট করার প্রচেষ্টা আমাদের রয়েছে।
সাম্প্রতিককালে কোয়াডভুক্ত চারটি দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। হিমালয় অঞ্চলে ভারতের সেনাবাহিনীর সঙ্গে চীনের বেশ কয়েক বার সংঘর্ষ হয়েছে। জাপানের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপ এলাকার কাছেও চীনের সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড রয়েছে। এছাড়া বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের জেরে অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন।
বৈঠকে জলবায়ু সংকট এবং করোনা মহামারি নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা। ২০২২ সালের মধ্যে এশিয়ার বেশির ভাগ অঞ্চলে ১০০ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে চার দেশ। ভারতে এই ভ্যাকসিন উত্পাদিত হবে। এক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান এবং কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দেবে অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকোলাস বার্নস এক টুইটে বলেছেন, এই বৈঠকটি বিশাল এক ব্যাপার। বাইডেনের নেতৃত্বে এই চার দেশ ভ্যাকসিন বিতরণ, এই অঞ্চলে গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ এবং চীনের প্রভাব ঠেকাতে কাজ করতে পারে।