সড়কে ঝরল দুই যন্ত্রশিল্পীর প্রাণ

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দেশের জনপ্রিয় দুই যন্ত্রশিল্পী হানিফ আহমেদ (৪০) ও পার্থ প্রতীম গুহ (৫০)। দুই জনই দেশের অন্যতম পারকাশন ও প্যাড বাদক ছিলেন। তাদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন হানিফের বড় ভাই মানিক ও কণ্ঠশিল্পী রাজীব।

তারা জানান, গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে পূর্ব নির্ধারিত স্টেজ শোতে অংশ নিতে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। উলটোদিক থেকে আসা একটি লরি তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে গাড়িটি ছিটকে পড়ে। এতে মারাত্মক আহত হন হানিফ আহমেদ, পার্থ গুহ, বিউটি খানসহ গাড়িতে থাকা অন্যরা। পার্থ গুহ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফ আহমেদকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা কণ্ঠশিল্পী বিউটি খান, মিউজিশিয়ান নন্দন, রাহাত, পাপ্পু ও তাওহীদ মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। এদের মধ্যে বিউটি খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিত্সকরা। সংগীতশিল্পী রাজীব বলেন, ‘আমারও আজকের (গতকাল) এই কনসার্টে গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যে ভাই আমাকে এতদিন সঙ্গে নিয়ে কনসার্ট করেছে তিনি না থাকলে কনসার্ট করি কীভাবে! হানিফ ভাই শুধু আমার কলিগ ছিলেন না। তার সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক ছিল। এত তাড়াতাড়ি আমাদের তারা একা করে চলে যাবেন সেটা স্বপ্নেও ভাবিনি। এই দুই মিউজিশিয়ানের অকাল প্রয়াণে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। দোয়া করি আল্লাহ তাদের অনেক ভালো রাখুক।’

উল্লেখ্য, দেশের বেশির ভাগ শিল্পীর সঙ্গে দীর্ঘদিন হানিফ আহমেদ ও পার্থ গুহ স্টেজ শো করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে চাঁদপুরে একটি স্টেজ শো শেষ করে রাত ৩টার দিকে মেঘনা ব্রিজের কাছ থেকে বিদায় নেন হানিফ আহমেদ। যুক্ত হন ঢাকা থেকে আগত পার্থ গুহসহ অন্য শিল্পী-মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে। পরে তারা একসঙ্গে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা  জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারপাহাড় এলাকায় ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকামুখী লরিটি সড়ক বিভাজক পেরিয়ে চট্টগ্রামমুখী লেইনে গিয়ে শিল্পীদের বহনকারী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে সেটি রাস্তার বাইরে ছিটকে পড়ে। এতে দুই যন্ত্রশিল্পী মারা যান। নিহত পার্থ প্রতিম গুহ কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার কান্দিরপাড় এলাকার দিলিপ কুমার গুহের ছেলে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে রেখেছি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।