মুদি দোকানির এক মাসের বিদ্যুত্ বিল ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩২৭ টাকা!

গৌরীপুর বিদ্যুত্ বিভাগের দুর্নীতি-অনিয়ম ও ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিলের কারণে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গৌরীপুর বিদ্যুত্ অফিসের বিশাল অংকের ভূতুড়ে বিলের কারণে অনেকের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কোনো কোনো গ্রাহকের বাড়িভিটা বিক্রি করেও বিদ্যুত্ বিল দেওয়ার উপায় নেই। তেমনি এক জন গ্রাহক মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি কোনাপাড়া গ্রামের এক জন মুদি দোকানি। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে তার বিদ্যুত্ বিল এসেছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩২৭ টাকা। তিনি বলেন, অক্টোবর মাসেও বিদ্যুত্ বিল এসেছে ৮ হাজার ১১৪ টাকা, ইউনিট ছিল ১২ হাজার ৯৬০। এক মাস পরে নভেম্বর মাসে হঠাত্ করে মিটারে রিডিং ৯৩ হাজার ৮১৪ ইউনিট উঠে যায়। বিদ্যুত্ বিভাগে আবেদন নিবেদন করেও আমি প্রতিকার পাচ্ছি না। সাবেক চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী জানান, হেলালের সাড়ে ৭ শতাংশের বাড়িভিটে আর কদমতলী বাজারের তিনটি দোকান বিক্রি করে দিলেও এ বিলের টাকা হবে না। অভাবের কারণে হেলালের এক ছেলের লেখাপড়া বন্ধ, রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসাবে কাজ করছেন। অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিলের প্রতিকারের জন্য অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে তিন বেলার খাবারও জুটছে না। হেলালের স্ত্রী নারগিস আক্তার জানান, বিদ্যুত্ বিলের চিন্তায় তার স্বামী রাতে ঘুমাতেও পারছেন না। এ বিষয়ে আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুত্) নিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মিটার পরীক্ষা করা হয়েছে। মিটার সঠিক থাকায় বিল করে দেওয়া হয়েছে। 

এমন আরেকটি অভিযোগ পাওয়া যায় পৌর শহরের গোলকপুর গ্রামে। এ গ্রামের মুদি দোকানি শিরিনা আক্তার। তাকেও দেওয়া হয়েছে এক মাসের বিদ্যুত্ বিল ৭৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, বিদ্যুত্ বিভাগের অত্যাচার থেকে বাঁচতে বিভিন্ন স্থানে বিচার প্রার্থী হয়েছি, ঘুরেছি, কেউ সহযোগিতা করেনি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করেছি।

কোনাপাড়া গ্রামের মো. হযরত আলীর জানুয়ারি মাসে বিদ্যুত্ বিল  এসেছে ৩৭১ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসের বিল ১৩ হাজার ৬৪৭ টাকা। একই গ্রামের আব্দুল খালেকের জানুয়ারি মাসের বিল ১ হাজার ৬০৩ টাকা কিন্তু ফেব্রুয়ারির বিল ১৮ হাজার ১০০ টাকা। মো. নবী হোসেনের জানুয়ারি মাসে বিদ্যুত্ বিল ৩৯৩ টাকা, ফেব্রুয়ারির বিল ২৬ হাজার ৬০১ টাকা। আবু বক্কর সিদ্দিকের জানুয়ারির বিল ৫৪৪ টাকা, ফেব্রুয়ারির বিল ৯ হাজার ২৭৯ টাকা। নন্দন চন্দ্র ধরের জানুয়ারির বিল ১ হাজার ১৪৩ টাকা, ফেব্রুয়ারির বিল ৫ হাজার ৫১২ টাকা। রোমালী মণ্ডলের জানুয়ারি মাসে ৫৪৩ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৯ হাজার ২৭৯ টাকা। আবুল কালামের বিদ্যুত্ মিটার না দেখেই বিদ্যুত্ বিভাগ বিল করছে। মিটারে রিডিং ১২ হাজার ১৫৫ ইউনিট, বিল করেছে ১৬ হাজার ২৩৫ ইউনিটের।

ভুতুড়ে বিদ্যুত্ বিল বন্ধ ও জরিমানা প্রত্যাহারের দাবিতে গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া কদমতলী বাজারে শুক্রবার প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, ৭১’রে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে মাতৃভূমি স্বাধীন করেছি। স্বাধীন দেশে বিদ্যুত্ বিভাগের আচরণ দেখে মনে হয় আমরা এখনো পরাধীন।  এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুত্) নিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, গ্রাহকদের অনুমোদনবিহীন কাজে বিদ্যুত্ ব্যবহারের জন্য আইনের ৩৮ ধারায় এ জরিমানা করা হয়েছে। আবাসিক সংযোগ নিয়ে সেচ বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।