উপাচার্য কলিমউল্লাহর অনিয়ম তদন্তে বেরোবিতে ইউজিসি টিম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম-দুর্নীতির সরেজমিন তদন্ত করতে ক্যাম্পাসে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি। গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে প্রফেসর ড. বিশ্বজিত্ চন্দের নেতৃত্বে ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব জামাল উদ্দিন এবং সদস্য প্রফেসর ড. আবু তাহের ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছান।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ আমরা তদন্ত করতে এসেছি। আমরা সব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেব। প্রতিবেদন মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।’

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বেরোবি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৪৫টি অভিযোগ তোলা হয়। মোটা দাগে অভিযোগগুলো হলো :রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়েও ভিসির অনুপস্থিত থাকা, নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাস, ইচ্ছেমতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে একাডেমিক প্রশাসনিক পদ দখল এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন। মূলত এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ৪৫টি অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রী বরাবর পেশ করেছি। তা এত দিন পর তদন্তে এসেছে। আমরা তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ প্রমাণের কাগজপত্র প্রদান করব।’ এদিকে সম্প্রতি ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ১০তলা ভবন ও একটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজে উপাচার্যের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসির আরেকটি তদন্ত কমিটি। এজন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

ভিসির দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশে প্রশাসনের প্রতিবাদ

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর দুর্নীতির ৭৯০ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। কিন্তু উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকদের দাবি, অভিযোগ সত্য। শনিবার দুপুরে এই শ্বেতপত্র প্রকাশের পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি পক্ষ তথাকথিত পরিষদ তৈরি করে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে ভিসিবিরোধী শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।