তরুণদের উৎসাহ ও নির্দেশনা দিতে ‘ওয়াই ম্যাগাজিন’র যাত্রা শুরু 

অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাতিসংঘ যুব ও ছাত্র সমিতি বাংলাদেশ ও ওয়াই মিডিয়ার সাময়িকী 'ওয়াই ম্যাগাজিন'।  সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের থ্রিডি সেমিনার কক্ষে সাময়িকী উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘ যুব ও ছাত্র সমিতি বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং ইউনিস্যাব ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ সাইখ ইমতিয়াজ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।  এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ বাংলাদেশের আবাসিক সমন্বয়কারী ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মিয়া সেপ্পো এবং বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন।  এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, ইউনিস্যাব ট্রাস্টি বোর্ডের সহ-সভাপতি এবং ইয়াং বাংলার আহ্বায়ক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ওয়াই-ম্যাগাজিনের সম্পাদক ফাহিম রাজ্জাক।  এ সময় তিনি বলেন, ২০৩০ সালের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের অনেক দিন ধরেই একটা প্ল্যাটফর্মের দরকার ছিলো, যাতে করে সমাজের তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা সমাজের মাঝে তুলে ধরা যাবে। সেই লক্ষ্যেই 'ওয়াই ম্যাগাজিন' এর পথচলা।  এই ম্যাগাজিনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পেরে আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি।  ম্যাগাজিনটি মূলত শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ইত্যাদির ওপরে কাজ করবে, যা তরুণদের উৎসাহ ও সঠিক পথ নির্দেশনা দিবে। 

এরপর জাতিসংঘ যুব ও ছাত্র সমিতি বাংলাদেশ সম্পর্কে অডিও ভিজুয়াল উপস্থাপন করেন ইউনিস্যাব বাংলাদেশের সভাপতি শ্যামী ওয়াদুদ। অনুষ্ঠানটির অন্যতম বিশেষ অতিথি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ইউনিস্যাব তরুণদের নিয়ে কাজ করে, তাদের সঠিক নেতৃত্ব ও গুণাবলি এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে, এজন্যে আমি ইউনিস্যাবকে ধন্যবাদ জানাই।  আমরা আশা করি ২০৩০ সালের আগেই বেকারত্ব অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে পারব।  যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রণালয় ৭১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বছরে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।  আগামীতে অনলাইনে প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে যাচ্ছি।  এই উদ্দেশ্যে মোবাইল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে যুবকরা স্বল্প মূল্য বা বিনামূল্য প্রশিক্ষণ নিতে পারে।  আমি ইউনিস্যাবের প্রকাশিত 'ওয়াই ম্যাগাজিনের' সফালতা কামনা করছি এবং এই ম্যাগাজিনের মাধ্যমে যুব সমাজ অনুপ্রাণিত হয়ে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন’৪১ এর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ুক এটাই আমার প্রত্যাশা। 

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, আজকের এই উদ্যোগটি তরুণদের কেন্দ্র করে পাশাপাশি।  আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আগামী ৫০ বছরের তরুণ সমাজের অবদানকে সবার সামনে তুলে ধরা এবং তরুণদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলার প্রত্যয়।  মাসিক, ওয়াই ম্যাগাজিনের মাধ্যমে এই তরুণদের  উন্নতি এবং অবদান তুলে ধরার প্রচেষ্টা করব।  এছাড়াও তিনি বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধিশীল করতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একই সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা এবং কাজ করার আহ্বান জানান।  

প্রধান অতিথির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বিহারে দুর্গত এলাকায় দুর্ভিক্ষে স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন।  তার আদর্শ ধরে রেখে তরুণদের জনমনে মিশে কাজ করতে হবে।  তরুণদের উচিত সফট স্কিলগুলোকে ডেভেলপ করা।  আমি ইউনিস্যাবকে অনুরোধ করছি, তারা যেনো সচেতনতামুলক নেতৃত্ব দিয়ে এসডিজি পূরণ ও জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।  এ সময় তিনি ওয়াই-ম্যাগাজিনের শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং ইউনিস্যাব ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ সাইখ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, ইউনিস্যাবের ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারপার্সন শাইখ ইমতিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের অনেক তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড কেউ ঠিকভাবে তুলে ধরে না যার ফলে অনেকেই এই সম্পর্কে জানতে পারছে না।  তাই ওয়াই ম্যাগাজিনের  লক্ষ্যই হচ্ছে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কাজগুলোকে তুলে ধরা যাতে করে অন্যরাও অনুপ্রেরণা পেয়ে সম্পৃক্ত হয়।  এছাড়াও তিনি কলকাতা-বিহারের দাঙ্গার সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি