বোম্বাই জাতের লিচুবাগানে মুকুলের সময় এসেছে পাতা!

মতিউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

ফাল্গুন মাস শেষ হতে চললেও বোম্বাই জাতের লিচুগাছে দেখা নেই মুকুলের। সোনালি রঙের মুকুল নয়, লালচে ও তামাটে রঙের কচি পাতায় আচ্ছাদিত হয়ে আছে লিচুবাগানগুলো। লিচুবাগানের এই অবস্থা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার। এতে লিচুর ফলন প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিত বিরল উপজেলার মাধববাটীতে গিয়ে দেখা হয় আগাম বাগান কেনা লিচু ব্যবসায়ী আনারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন লিচুগাছের দিকে। বছর জুড়ে বাগানের পরিচর্যা করার পরও গাছে কোনো মুকুল নেই, আছে শুধু নতুন পাতা। তার গোটা বাগানেরই এই অবস্থা। তিনি জানালেন, গাছগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন, আমার অবস্থাটা কী। আনারুল জানালেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সময়মতো পাতা বের হতে না পারায় এখন মুকুলের পরিবর্তে গাছে নতুন পাতা বের হচ্ছে। এসব গাছে আর মুকুলের সম্ভাবনা নেই। শুধু আনারুল নয়, অন্যান্য বাগান মালিকদেরও একই অবস্থা।

এদিকে বিরল উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, লিচুর জাতভেদে গাছের এই অবস্থা। বোম্বাই জাতের লিচুগাছে কোনো মুকুল নেই। মুকুল এসেছে মাদ্রাজি, বেদানা, চায়না-থ্রিসহ অন্যান্য জাতের লিচুতে। বাগানমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদ্রাজি, বেদানা, চায়না-থ্রি, কাঠালী জাতের এসব লিচুর ফলন হয় আগাম। কিন্তু বোম্বাই জাতের লিচুর ফলন আসে বিলম্বে। লিচু খ্যাত বিরল উপজেলায় অন্যান্য জাতের লিচুর চেয়ে বোম্বাই জাতের লিচুগাছই বেশি। তবে বোম্বাই জাতের লিচুগাছে মুকুল না আসায় ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন মাদ্রাজিসহ অন্যান্য জাতের বাগানমালিকরা। বিরল উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের মাদ্রাজি জাতের লিচুবাগান মালিক সাইফুল ইসলাম জানালেন, মাদ্রাজি জাতের লিচু বাজারে আসে বোম্বাই লিচুর অন্তত দুই সপ্তাহ আগে। স্বাদে ও মানে বোম্বাই লিচু ভালো হওয়ায় আগে ভাগেই না বিক্রি করলে মাদ্রাজি লিচুর দাম পাওয়া যায় না। কিন্তু এবার বোম্বাই লিচুর গাছে মুকুল না আসায় সাইফুল তার মাদ্রাজি লিচুতে ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন। লিচুর এই অবস্থার কথা স্বীকার করে দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, এবার দীর্ঘ সময় ধরে বর্ষণ হওয়ার কারণে বেশ কিছু লিচুগাছে এখন মুকুলের পরিবর্তে পাতা এসেছে। এতে ফলন কিছুটা কম হতে পারে। তবে অন্যান্য জাতের লিচুর বাগান মালিকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, লিচু খ্যাত দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এতে প্রায় ৪৫ হাজার টন লিচু উত্পাদিত হয়ে থাকে।