পরমাণু চুক্তিতে ফেরার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা করবে না তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারণ সময় খুব অল্প। ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে এ খবর জানিয়েছে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিদের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। সম্প্রতি জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন চুক্তিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ওয়াশিংটন পরমাণু সমঝোতায় ফেরার সময় ইরানকেও তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফিরতে হবে। তবে তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর ইরান এতে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিমাণ কমাতে শুরু করেছে। কাজেই মার্কিন প্রশাসনকে আগে এই সমঝোতায় ফিরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সুফল বাস্তবে পাওয়ার পর ইরান এই সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে যাবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছে। কিন্তু তাদের কোনো কথার প্রয়োজন আমাদের নেই। আমরা তাদের কাজ দেখতে চাই।’ জাভেদ জারিফ বলেন, ‘সুইস ব্যাংকের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় আমাদের আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেওয়ার যে কথা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যান। ওয়াশিংটনকে এই সমঝোতায় ফিরে আসতে হবে। অনেক আলোচনার পরই পরমাণু সমঝোতা হয়েছে। কাজেই এ বিষয়ে ইরান আর কোনো আলোচনা করবে না।

জারিফ বলেন, ‘ইরান অস্বাভাবিক কোনো দাবি উত্থাপন করেনি এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ বারবার স্বীকার করেছে যে, ইরান প্রতিশ্রুতি মেনে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কারণ আমাদের সময় খুবই স্বল্প।’ তিনি আরো বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। ইরান পরমাণু অস্ত্র বানাবে না এবং এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করবে না।