টার্গেট সেলিব্রেটি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও চিকিত্সক
জামিউল আহসান সিপু
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড করে দেওয়ার নামে একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তাদের টার্গেট সেলিব্রেটি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, চিকিত্সকসহ অভিজাত শ্রেণির জনপ্রিয় লোক। অনেক সময় দেখা যায়, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নামে অনেকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে রাখেন। এ কারণে বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে কোনটি আসল আর কোনটি নকল অ্যাকাউন্ট। তাই জনপ্রিয় ব্যক্তিদের আসল আইডি চিহ্নিত করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ একটি অপশন চালু করেছে। সেটি হলো—‘ব্লু ভেরিফাইড ব্যাজ’। যদি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নামের পাশে নীল বা হালকা কালো রঙের টিকচিহ্ন থাকে, তাহলে বোঝা যাবে সেটি আসল আইডি। বিষয়টিকে ‘ম্যাটার অব অ্যারিস্টক্রেসি’ বলে মনে করেন অনেকে। তাই নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন চান, তার ফেসবুক আইডি বা অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাইড হোক।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা এ পর্যন্ত দুইটি চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তারা ফেসবুক আইডি ভেরিফাইড করে দেওয়ার নামে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
নরসিংদীতে বসেই সৈকত মিয়া দেশ-বিদেশে বিস্তার করেছেন প্রতারণার জাল। অথচ তিনি কানাডায় থাকেন বলে ভেরিফাইড-প্রত্যাশীদের কাছে প্রচার করতেন। সৈকত মিয়া পেশায় একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। আট বছর ধরে তিনি ফেসবুক প্রতারণায় জড়িত। তিনি মিশর, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজাজিরা ও মরক্কোর কিছু চক্রের কাছ থেকে বু্ল-ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি কিনে তা ব্যবহার করে ছদ্মনামে প্রতারণা করে আসছিলেন। একেক সময় তিনি একেক আইডি ব্যবহার করেন। তার সবকটি আইডিই ভেরিফাইড। এ কারণে ভেরিফাইড-প্রত্যাশী লোকজন সহজেই তাকে বিশ্বাস করতেন।
এক ভুক্তভোগী জানান, কয়েক দিন ধরেই তিনি অ্যাকউন্টটি ভেরিফাইড করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে রিকোয়েস্ট করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রিকোয়েস্ট পেন্ডিং ছিল। কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। এ কারণে তিনি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে ভেরিফাইড পেজের জন্য অবেদন করার চিন্তা করেন। এ বিষয়ে গুগলে সার্চ দেন। সেখানে এ সংক্রান্ত একটি পেজ আসে। পরে সেটি ঘেঁটে তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। এরপর তিনি সেখানে একটি স্ট্যাটাস দেন, ‘আই ওয়ান্ট টু ভেরিফাই মাই ফেসবুক।’ পরে এক লোক একটি কমেন্ট করে, ‘নক মাই মেসেঞ্জার’। পরে তার আইডি পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে তার আইডি ভেরিফাইড। তার একেকটি স্ট্যাটাসে হাজার হাজার লাইক-কমেন্টস। তার অবস্থান কানাডায়। ফেসবুক ডেভেলপিংয়ের সঙ্গে জড়িত।
ডেজিগনেশন ‘ব্লু ভেরিফাইড স্পেশালিস্ট’। এরপর তার সঙ্গে চ্যাটিং শুরু করেন। আইডি ভেরিফাইড করতে ভোটার আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি এবং ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে ১৫ হাজার টাকায় তার আইডিটি ভেরিফাইড করে দিতে ঐ লোক রাজি হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম চাওয়া হয়। বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার আগে ঐ লোক জানায়, তিন দিনের মধ্যে আইডিটি ভেরিফাইড করে দেওয়া হবে। চার দিনের মাথায় তাকে মেসেঞ্জারে নক করা হলে ঐ লোক তার মোবাইল নম্বর চায়। এর কিছুক্ষণ পর ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ থেকে জানানো হয় যে ঐ ব্যক্তি একজন প্রতারক তাকে পুলিশ আটক করেছে।