তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া অফিসারদের বদলি করবেন না ------আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনি তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের অফিসারদের বদলি করবেন না। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে কোর্ট, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে যাব। সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।

তিনি গতকাল সোমবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আরো বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের অধিকার স্থাপন, বাক্স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন তথা কল্যাণের জন্য। যেহেতু রাষ্ট্র নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়, সেহেতু প্রশাসনকেও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। জনমতের প্রতিফলন ঘটে এ রকম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করে নেওয়া হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন কোনো প্রশাসনের কাছে ভিক্ষার বস্তু নয়, এটা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, কোনো মহলবিশেষের নয়। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে, ভোট নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। কারো ইচ্ছামতো নির্বাচন করা হলে সেটা সরকার, দেশ ও জনগণের জন্য ভালো হয় না। রাষ্ট্র স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে। স্থানীয় নেতারা নিজেদের স্বার্থে নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায়। জনমত পক্ষে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাই হোক নির্বাচন সুষ্ঠু হতে বাধ্য। এর অন্যথা হলে তা যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনীতিতে কী হচ্ছে তা সবার জানা। দেশের সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে সংশয় থাকতে পারে কিন্তু আমরা কখনোই নিজেরা ভিন্ন ধারায় নির্বাচন করিনি। কিছু কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী অতিউত্সাহী হয়ে এর ব্যত্যয় ঘটালেও আমরা তা সমর্থন করি না। আল্লাহ ছাড়া কারো করুণা চাই না। আমি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তান আমলে লাড়াই-সংগ্রাম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছি, মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছি। তার ধারাবাহিকতায় ৩৬ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারা দেশের জনগণের উন্নয়ন চাহিদা মেটাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছি। ১৮ বছরে বিভিন্ন সময়ের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বিদ্যুত্, বনায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীর তীর সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজে দেশব্যাপী অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করেছি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ইন্দুরকানী উপজেলাটি একটি দ্বীপাঞ্চল। এখানের মানুষকে শান্তিপূর্ণ বসবাসের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গত ৮/৯ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছি। যা অতীতে বিভিন্ন সময় অনুপস্থিত ছিল। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধ, রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিদ্যুত্ সংযোগ, জলোচ্ছ্বাস-ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে বাঁচাতে বহুমুুখী সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন ইত্যাদি অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এক সময় পিরোজপুর জেলা শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাও ছিল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম। ‘একটি রাস্তার শহর পিরোজপুরে’ বাইপাস সড়ক নির্মাণ, বলেশ্বর সেতু নির্মাণ, চরখালী-টগড়া ফেরি, বেকুটিয়া ফেরি স্থাপনসহ উপজেলাসমূহের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন ও উন্নয়ন করে এ অঞ্চলের মানুষকে সুগম্য যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টিতে যথাসাধ্য কাজ করেছি। এ এলাকার মানুষ এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন করেন।

তিনি আরো বলেন, অতীত ও বর্তমান সময়ে দেশে অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। তাই যেকোনো মূল্যে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। কোনোরূপ পক্ষপাতদুষ্ট, প্রভাবযুক্ত, অস্বচ্ছ নির্বাচন কাম্য নয়। এ ধরনের অনভিপ্রেত কাজের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে প্রশাসনের এ বদনাম নেওয়া অনুচিত ও ঠিক নয়। ভোট কাটা বা এর সহযোগিতা করা প্রশাসনের কাজ নয়। চাকরি রক্ষা বা পদোন্নতির জন্য তারা ভোট কাটার মতো বেআইনি কাজে মাঝে মাঝে জড়িত হন বটে কিন্তু তাদের জন্য তা স্থায়ী সুফল বয়ে আনে না। প্রশাসন আইনানুগ থাকবেন এবং আইন যদি ঠিক থাকে তাহলে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের কথা শুনতে হবে।           

ইন্দুরকানী জাতীয় পার্টি-জেপি এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।