অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আধুনিক বাংলাদেশের ভিত বঙ্গবন্ধুর হাতেই রচিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, যিনি বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সুদীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে প্রকৃত স্বাধীন সত্তা উপহার দিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বাধীন বাংলাদেশ।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন এলাকার নাঙ্গলকোট, লালমাই ও সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু উপনিবেশ-শৃঙ্খলিত একটি ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করেছেন এবং তাদের করে তুলেছেন স্বপ্নমুখী ও মুক্তিমুখী। এই যে একটি জাতির মানস প্রকল্প জাগিয়ে তোলা—এটাই বঙ্গবন্ধুর অক্ষয় অবদান। বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে এদেশের প্রত্যেক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বিদ্যুত্, কৃষি ও সমবায়, শিল্প ও বিজ্ঞান, গৃহনির্মাণ, অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্প ব্যবস্থাপনা জাতীয়করণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি অসংখ্য নীতি, পরিকল্পনা ও আইনের উদ্যোক্তা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি সুন্দর বাসযোগ্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি।’ মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে একটি চক্র দেশের অগ্রগতি থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিকতায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীষ ঘোষ, লালমাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুল প্রমুখ।
‘শিক্ষার মাধ্যমে দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব’
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আমার একটাই পুঁজি আছে, আমি লেখাপড়া শিখেছি। লেখাপড়া শিখেই আমি আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আমি যেমন আসতে পেরেছি, তোমরাও আসতে পারবে। শিক্ষার মাধ্যমে আমরা আগামীর বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চান।’ গত মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোর অধিকতর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্প কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুধু ভৌত অবকাঠামো মূল বিষয় নয়, এর পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর আন্তরিকতায় দ্রুততম সময়ে এ মেগা প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। প্রকল্পটি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের একটি মাইলফলক, যা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চাহিদামতো গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এবং এটা হবে দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়। পরে মাটি কেটে মূল ফটকের কাজের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ও প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আলী।