নিজের স্ত্রী ও সন্তানের কথা গোপন করে প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে করে সে স্ত্রীকেও শারীরিক মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার বেলতলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিকের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ভিরিন্দা গ্রামের খুরশেদ আলমের মেয়ে খাদিজা আক্তার প্রেমার বিয়ে হয়।
বিয়ের কয়েক মাস পর প্রেমা জানতে পারে রফিকের প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। সেই মুহূর্তে তিনি সন্তানসম্ভবা থাকায় ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামী রফিকের সঙ্গেই ঘর সংসার শুরু করেন। কিন্তু এসআই রফিক তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক তার সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করে এবং সব সময় অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় বার প্রেমা সন্তানসম্ভবা হলে এসআই রফিক আবারও জোরপূর্বক তার সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করে।
২০২০ সালের ১৯ মে রাতে এসআই রফিক নরসিংদীতে গিয়ে প্রেমার দাদি এবং ছোট বোনের উপস্থিতিতে তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। বর্তমানে প্রেমা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এদিনও প্রেমার সন্তান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে। প্রেমার বোন, দাদি ও চাচি তাকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসলে তাদেরকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় এসআই রফিক। আরো বলে যে, তোদের পরিবারের সবাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠাব। প্রেমার সঙ্গে সংসারকালীন রফিক প্রায়ই ৪০০-৫০০ ইয়াবা নিয়ে বাসায় আসত এবং ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করত। এসব প্রমাণ প্রেমার ব্যবহূত মোবাইল ফোনে রেখেছে জানতে পেরে এসআই রফিক প্রেমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে দেয়।
বর্তমানে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রেমা তার পিত্রালয়ে বসবাস করছে। রফিক বর্তমানে শরীয়তপুর জেলার পালং মডেল থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রেমা নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।