মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদী খননে পানিপ্রবাহ দৃশ্যমান হলেও নদীর মধ্যখানে ঘোড়াঘাট এলাকার এক/দেড় কিলোমিটার জুড়ে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় পানির অভাবে গত এক মাস যাবত্ বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল ও নৌকায় পারাপার। এছাড়া ঘোড়াঘাট এলাকায় চলমান খনন সত্ত্বেও নদীর বুক জুড়ে শহরের বড়বাজার সংলগ্ন ঘোড়াঘাটে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৩০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে গড়াই নদীর পানি প্রবাহ সচল রাখতে নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর তিন বছর মেয়াদি খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গড়াইয়ের উত্সমুখ থেকে উজানে ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার খনন চলমান থাকলেও কুষ্টিয়ার ঘোড়াঘাট এলাকায় এখন বলতে গেলে হাঁটু পানি। গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নদীর বুক জুড়ে নির্মিত হয়েছে ৩০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকোর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ৮-১০ হাজার লোক পায়ে হেঁটে নদী পারপার হচ্ছেন। ফলে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর বালু চরের ওপর দিয়ে হেঁটে পারাপারে নারী, শিশু ও বয়স্করা পোহাচ্ছেন দুর্ভোগ।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গড়াই নদী খনন প্রকল্পের আওতায় গড়াইয়ের উত্সমুখ থেকে উজানে ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২০.৫ কিলোমিটার খনন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরমধ্যে বর্তমানে ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অপর ছয় কিলোমিটার খনন কাজও চলমান। বাকি আট কিলোমিটার খনন করা হবে টেন্ডারে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায়। ডিজাইন অনুযায়ী গড়াইয়ের উত্সমুখে ৩৫০ মিটার চওড়ায় খনন হয়েছে। এরপর উজানে ১ কিলোমিটার পর পর ৩০০, ২৫০,২০০ মিটার চওড়া ও সর্বশেষ গড় ১২০ মিটার চওড়াসহ ৬ মিটার গভীরতায় নদী খনন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব সাতটি ড্রেজারে খনন করা হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপসারণ করা হয়েছে ৮৮ লাখ ঘনমিটার বালু-পলি মাটি। তবে খননের ফলে গড়াইয়ে পানির প্রবাহ দৃশ্যমান হলেও শেখ রাসেল সেতুর পর থেকে উজানে ঘোড়াঘাটে নদীর এক/দেড় মিলোমিটার জুড়ে নদী পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের জুন মাসে। এ ব্যাপারে গড়াই নদী পুনরুদ্ধার ও ড্রেজিং প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমীর হোসেন জানান, গড়াই নদীর ঘোড়াঘাট অংশে শিগিগরই খনন কাজ শুরু করা হবে। ওই স্থানে বালু ফেলার জায়গা না থাকায় এক কিলোমিটার দূরে জেলা পরিষদের পার্কের কাছে নদী চরে পাইপ লাইন বসিয়ে বালু ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীর অস্তিত্ব রক্ষাসহ সারা বছর পানিপ্রবাহ সচল রাখতে নদী খননের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।