১০ দিনের আলটিমেটাম ডিআইএফইর
দেড় হাজারের মধ্যে সংস্কারে রয়েছে মাত্র
৪০০ কারখানা
রিয়াদ হোসেন
বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কারখানা সংস্কারে কোনো কার্যক্রম শুরু না করায় ৪৫ তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানাকে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারখানাগুলো সংস্কারকাজ শুরু না করলে চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সোমবার কারখানাগুলোর প্রতিনিধিদের ডেকে এ সতর্কবার্তাসমেত নোটিশ দেওয়া হয়। ডিআইএফইর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচ্য সময়ের মধ্যে কারখানাগুলো তাদের সংস্কারকার্যক্রম শুরু কিংবা অন্ততপক্ষে এ লক্ষ্যে পরীক্ষা করিয়ে সংস্কার পরিকল্পনা (কারেকটিভ অ্যাকশন প্ল্যান বা ক্যাপ) জমা দিতে হবে। অন্যথায় কারখানাগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।
সূত্র জানায়, চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া ৪৫টি কারখানার মধ্যে তৈরি পোশাকের বাইরে বস্ত্র খাতের কয়েকটি কারখানাও রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কারখানা রয়েছে, যেগুলো কোনো সংগঠনের সদস্যও নয়। কারখানাগুলো অপেক্ষাকৃত কম পুঁজির। মূলত অর্থায়নের ঘাটতির কারণে কারখানাগুলো সংস্কারকাজ শুরু করা কিংবা অন্যত্র নিরাপদ ভবনে যেতে পারছে না। ৪৫টি কারখানার প্রতিনিধিকে ডাকা হলেও গত সোমবার ৩০টির মতো কারখানার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাদের বেশির ভাগই সঠিক সময়ে কারখানা ভবনের সংস্কার না করা কিংবা নিরাপদ ভবনে কারখানা সরিয়ে নিতে পারার জন্য অর্থায়ন সমস্যাকেই দায়ী করেছেন। তবে সরকার নির্দেশিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সভায় ডিআইএফইর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক এজাজ আহমেদ জাবের, ক্যাপ বাস্তবায়ন প্রকল্পের পরিচালক সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ডিআইএফইর যুগ্ম মহাপরিদর্শক ফরিদ আহম্মদ, উপমহাপরিদর্শক কামরুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর ঐ বছরই কারখানাকে শ্রমিকের জন্য নিরাপদ করতে ভবনের কাঠামো, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ ইউরোপ ও আমেরিকাভিত্তিক ব্র্যান্ডগুলোর সমন্বয়ে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে দুইটি আলাদা জোট গঠিত হয়; কিন্তু ঐ জোটভুক্ত ব্যান্ড ও বায়ারদের কাছে রপ্তানি করে না—এমন ১ হাজার ৫৪৯টি কারখানা চিহ্নিত করে তা সংস্কারে ২০১৫ সালে উদ্যোগ নেয় শ্রম মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহযোগিতায় শুরুতে কারখানাগুলোকে পরীক্ষা করে আলোচ্য কারখানাগুলোর সংস্কারের কাজ শুরু হয়। এটি ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ বা এনআই নামে পরিচিত; কিন্তু গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ে মাত্র ৭০০ প্রতিষ্ঠান সংস্কার কাজের তালিকায় রেখেছে ডিআইএফই। বাদবাকি কারখানাগুলোর একটি অংশ বন্ধ হয়েছে, কিছু অন্যত্র স্থানান্তর হয়েছে, কিছু পরবর্তীকালে অ্যাকর্ড কিংবা অ্যালায়েন্সে যুক্ত হয়েছে।
বাদবাকি কারখানাগুলো প্রায় ৭০০ কারখানাকে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে সংস্কারকাজ শুরু করা কিংবা সংস্কারে গতি আনতে তাগাদা দেওয়া হয়। এমনকি সংস্কারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া কিংবা শুরু না করায় দুই শতাধিক কারখানা ইউডি সেবা (কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতার সনদ) বাতিল করতে পোশাকশিল্প মালিকদের দুইটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে চিঠিও দেয় ডিআইএফই; কিন্তু ঐ চিঠির পর হাতে গোনা কয়েকটি কারখানার ইউডি সেবা বন্ধ করা হয়। বাদবাকি কারখানাগুলো এখনো চলমান রয়েছে।
ডিআইএফইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ডিআইএফইর তালিকায় থাকা ৭০০ কারখানার মধ্যে বর্তমানে সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে ৩ থেকে ৪০০ কারখানায়। বাদবাকি কারখানাগুলোকে শিগিগরই সংস্কার শুরু করতে হবে, কিংবা ঐ ভবনে কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আর ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা এসব ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার কোনোটিতে দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় পুরো খাতের ওপর পড়বে। ৪৫ কারখানার বাইরে সংস্কার শুরু না করা অন্য কারখানার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সভায় উপস্থিত নিবিড় সোয়েটার নামে একটি কারখানার প্রতিনিধি বলেন, করোনা পরিস্থিতিসহ আর্থিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তবে ক্যাপের জন্য বর্তমানে পরামর্শক কাজ করছে বলে জানান তিনি। নারায়ণগঞ্জের মিথিলা টেক্সটাইলের কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান শাকির হোসেন ইত্তেফাকের কাছে দাবি করেন, তার কারখানা কাঠামো এবং অগ্নি ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ঠিকই আছে। তার কারখানা ভবনের বিষয়ে এনআই থেকে যে মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি বলেন ড্রয়িং ও ডিজাইনে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। এটি অনেক কারখানা মালিকের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এরপর সংস্কারের আরো বিশাল ব্যয় তো রয়েছেই।