মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে তালেবানরা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন এবং ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহারের পর সেখানে তালেবানরা আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকরা। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ইউরোপীয় ফাউন্ডেশন (ইএফএসএএস) কর্তৃক আয়োজিত ‘আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার পরবর্তী দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তারা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়েছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের কূটনৈতিক প্যানেল, নীতি বিশ্লেষক এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদ সেক্টরে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত নাসির আহমেদ আনদিসা বলেন, আফগানিস্তান দীর্ঘসময় ধরে বাইরের শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। সর্বপ্রথম রাশিয়া ও ব্রিটিশ ভারতের অধীনে। এরপর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে। যাইহোক, এর মাঝেও দেশটি রাজনৈতিক ধাক্কা কাটিয়ে এবং বিভিন্ন প্রদেশের উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেদের আত্বপ্রকাশের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

১৯৭৯ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন চলে যাওয়ার পর সেখানে প্রভাব বিস্তার করার মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছে সুযোগ ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সঙ্গে মিলে নিজেদের প্রতিরক্ষা, কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধি করা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইসলামাবাদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমান্বয়ে হারিয়ে ফেলেছে।

এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান খান সরকারও তালেবানদের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। অন্যদিকে, ভারত সরকার আফগানদের সঙ্গে নিজেদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করেছে। এমতাবস্থায় অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার আবারও সেখানে তালেবানদের শক্তিমত্তা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যোগ করেন রাষ্ট্রদূত নাসির আহমেদ আনদিসা।

ইত্তেফাক/টিএ