রংপুর বিভাগের আট জেলায় আলুর ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে চলছে আলু উত্তোলনের কাজ। তবে আলুর দাম কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন আলুচাষিরা। তারা বলছেন, বর্তমানে আলুর দাম না থাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্থানীয় চাষিরা। রংপুর অঞ্চল কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে ৯৯ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এ বছর আলুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৯৭ মেট্রিক টন। যা গত বছর ছিল ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন। রংপুরের কাউনিয়ার আলুচাষি জাহাঙ্গির হোসেন জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর আমরা আলুর ভালো দাম পেয়েছি। তবে এবার আলুর দাম ভালো না। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের কৃষি অঞ্চলের আট জেলার মধ্যে রংপুরে ৫২ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। নীলফামারীতে ২১ হাজার ৭৩৫ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৯ হাজার ৩০, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ৪৪৫, পঞ্চগড়ে ১১ হাজার ৪০০, দিনাজপুর ২১ হাজার ৬০০, ঠাকুরগাঁয় ৯ হাজার ২০০ এবং লালমনিরহাটে ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। তিনি আরো জানান, কৃষকরা আলুর ফলন ভালো পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট উত্পাদনের ১৯ হাজার ৯৮৬ হেক্টর জমির আলু তোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত বাজারজাত হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৮ মেট্রিক টন আলু। রংপুর বিভাগে আলু সংরক্ষণে ৬৭টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি হিমাগার রয়েছে রংপুরে এবং ১০টি নীলফামারী জেলার মধ্যে। বাকি সাত জেলায় ১৭টি হিমাগার রয়েছে।