কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ‘কে এন্ড কোং’ নামক ইটভাটার শেডে গত শুক্রবার ভোরে কয়লা বোঝাই ট্রাক উল্টে চাপা পড়ে ১৩ ঘুমন্ত শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ট্রাক চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করেন ওই দুর্ঘটনায় নিহত রঞ্জিত চন্দ্র রায়ের ভাই সঞ্জিত চন্দ্র রায়। তিনি নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার নিজপাড়া গ্রামের সুরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। ওই ইটভাটায় তিনিও কাজ করতেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, ‘অবহেলাজনিত কারণে ১৩জন শ্রমিক মৃত্যুর অভিযোগে সঞ্জিত চন্দ্র রায় দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ট্রাক চালক ও হেলপারের নাম-পরিচয় অজ্ঞাত থাকলেও তাদের সনাক্ত করে সহসাই গ্রেফতার করা হবে।’
নিহত শ্রমিক পরিবার আর্থিক সহায়তা পাবে ১ লাখ টাকা
কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। এছাড়া এ ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। শনিবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ স্যাটেলাইট যন্ত্রযুক্ত আরও একটি কচ্ছপ সুন্দরবনে জেলের জালে
এর আগে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। এ ছাড়া ইটভাটা মালিকের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রামের স্থানীয় ঘোলপাশা চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ।
ইত্তেফাক/নূহু