সৈকতে বালুর ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ

কলাপাড়ার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বালুর ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস। ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতার নানা চিত্র। রাজশাহী ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা গত আট দিন ধরে এই ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। পটুয়াখালী জেলা পুলিশ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, যা দেখতে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় করছে। গত বুধবার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এ ভাস্কর্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বালুর ভাস্কর্যে বাংলাদেশের মানচিত্রের ঠিক মাঝখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। ভাস্কর্যের শুরুতে স্থান পায় মহান ভাষা আন্দোলনের নানা চিত্র। এ ছাড়া ছয় দফা, নির্বাচন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উল্লাসের চিত্র ফুটে উঠেছে। ভাস্কর্যের গায়ে অ আ ক খ থেকে শুরু করে লেখা হয়েছে, ‘আমার সোনার বাংলা’ ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, ‘মাতৃভাষা বাংলা চাই’—এমন নানা স্লোগান। রাতের আঁধারে এ ভাস্কর্য দেখার জন্য করা হয়েছে আলোর ব্যবস্থা। প্রদর্শনী চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত।

কুয়াকাটায় ভ্রমণে এসে এ ভাস্কর্য দেখে খুশি তৃতীয় শ্রেণির নামিরা ও অষ্টম শ্রেণির মাহিয়া। তারা জানায়, পাঠ্যবইয়ে এতদিন তারা মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনে বীর সেনানীদের আত্মত্যাগের কথা পড়েছে। বালুর ভাস্কর্যে এ দৃশ্য ফুটিয়ে তোলায় তারা খুশি। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটি ছিল সব ভাস্কর্যের মাঝে, যাতে বোঝানো হয়েছে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সব ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন কেন্দ্রবিন্দুতে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট অপারেটর টোয়াকের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সৈকতে নির্মিত এ ভাস্কর্য কুয়াকাটায় স্থায়ীভাবে কোথাও নির্মিত হলে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের গল্প জানতে ও শিখতে পারবে পর্যটকসহ নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা।

কুয়াকাটার বাসিন্দা হাসান মাহমুদ বলেন, অসাধারণ এই ভাস্কর্য ১০ দিন প্রদর্শনীর পর যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী অনুপম ধর বলেন,  চারুকলার ছয় জন শিক্ষার্থী গত ৯ মার্চ থেকে সৈকতের বালুচরে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১০ ফুট প্রস্থের এই ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন স্মরণে আমাদের ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উল্লাস—সবই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, কুয়াকাটা সৈকতে ভাস্কর্য নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুজিব জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন।