সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় ১২ জনকে শ্যোন অ্যারেস্ট

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় ১২ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে ১২ আসামিকে উক্ত মামলায় গ্রেফতার  দেখায়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—আবদুল আমিন, আলমগীর, ইউসুফ, নবী, রাহাত, ফয়সাল আলম টিটু, আজিজুল হক মানিক, বিক্রম চন্দ ভৌমিক, সুজায়েত উল্যাহ, দেলোয়ার, মো. সেলিম ও মাসুদুর রহমান।

জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের আব্দুল কাদের মির্জা ও একরাম সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনায় ১২টি মামলা ও তিনটি জিডি হয়েছে। নোয়াখালীর গোয়েন্দা পুলিশ ও কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৪১ জনকে আটক করে নোয়াখালী জেলহাজতে পাঠায়। পরে সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জনকে ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

নোয়াখালী পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১২ আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে।

প্রসঙ্গত : গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কোম্পানিগঞ্জের চাপরাশিরহাট পূর্ববাজারে পুলিশ, কাদের মির্জা ও একরামুল করিম চৌধুরী সমর্থিত তিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশও ১২ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ সাত-আট জন। পরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে মুজাক্কিরের বাবা নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই নোয়াখালীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।