শেখ হাসিনা-সলিহ বৈঠক

পিটিএ চুক্তিতে সম্মত বাংলাদেশ-মালদ্বীপ

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিতে (পিটিএ) সই করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম মোহামেদ সলিহর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পিটিএ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে দুই নেতা ঐকমত্যে পৌঁছান। এদিকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো জোরদারে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে মত্স্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম মোহামেদ সলিহর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে এসব এমওইউ সই হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে পিটিএ স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিলে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ মালদ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার এবং অদূর ভবিষ্যতে পিটিএ স্বাক্ষর হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার দেশ রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় আইসিজেতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট জাস্টিস) বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায়। এছাড়া দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যুব উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ সম্ভাবনাময় একাধিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হন। প্রেসিডেন্ট সলিহ ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী মেডিক্যাল প্রফেশনালদের ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সলিহ দুই দেশের অর্থনীতিতে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য অবদানের প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এলজিআরডি এবং সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এস এম রেজাউল করিম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মালদ্বীপের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহীদ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ফাইয়াজ ইসমাইল, বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সচিব সাবরা ইব্রাহীম নরদেন এবং পররাষ্ট্র সচিব আবদুল গফুর মোহাম্মদ। পরে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রক্ষিত পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরে মত্স্য এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে চারটি এমওইউ স্বাক্ষর হয়।

কানেক্টিভিটি বৃদ্ধিতে সম্মত বাংলাদেশ-মালদ্বীপ

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে কানেক্টিভিটি ও বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মালদ্বীপ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করে সুবিধাজনক সময়ে সেদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সভাপতি পদে মালদ্বীপের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক পদে ২০২৩ সালের জন্য বাংলাদেশি প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেবে মালদ্বীপ।