৯ মামলার আসামির অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য যমুুনার গটিয়ার চরে একটি বাড়ি থেকে ৯ মামলার পলাতক আসামির অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জুয়েল রানা (৩৫) চরের আলমগীর হোসেনের ছেলে। গত বুধবার এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ দাবি করেছে, জুয়েলের বাড়িতে অভিযান চালালে গ্রেফতার এড়াতে সে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করে। সে মোটরসাইকেল চোর চক্রের নেতা। এ ঘটনায় চারটি চোরাই মোটরসাইকেলও পুড়ে গেছে। 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, নিহত জুয়েল রানার বিরুদ্ধে চুরিরসহ ৯টি মামলা রয়েছে। মূলত মামলার সূত্র ধরেই গত বুধবার দুপুরে সদর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নৌকাযোগে যমুনা নদী পার হয়ে গটিয়ার চর গ্রামে জুয়েলের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় জুয়েল নিজের ঘরেই অবস্থান করছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়েল ঘরের জানালা-দরজা আটকে বসে থাকে। অনেক ডাকাডাকির পরও সে দরজা না খুলে পুলিশ সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে এবং নানাভাবে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ডেকে পাঠায়। চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মাস্টার ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জুয়েল রানাকে দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করেন। তাতেও তার সাড়া মেলেনি। একপর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতর থেকে আগুনে পোড়া জুয়েলের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

কাওয়াকোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এবং ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমাদের ধারণা, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে জুয়েল মোটরসাইকেলের পেট্রোল নিজের শরীরে ঢেলে তাতে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। রাতেই পুলিশ জুয়েলের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।