এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নিপুণ এখন অভিনয়ের চেয়ে নিজের ব্যবসাতেই বেশি মনোযোগী। তবে চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হলেও ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে মাঝে মাঝে দেখা দেন তিনি। নিজের কাজ ও ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি—
নিজের ব্যবসা নিয়ে মূলত ব্যস্ততা চলছে। পাশাপাশি ‘বীরত্ব’ নামের একটি ছবির কাজ শেষ করলাম।
এক সময়ের ব্যস্ত চিত্রনায়িকা নিপুণ হটাত্ অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। এ কারণ কী?
আসলে আমার ব্যবসার কাজে অনেক বেশি সময় দিতে হয়। কারণ এখানে নিজে না থাকলে কাজ সেভাবে সম্পন্ন করা যায় না। তাছাড়া করোনার জন্য সবকিছু বন্ধ ছিল, ফলে নতুন করে সব শুরু করতে হচ্ছে।
আপনারা অনেকেই ক্যারিয়ারের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ব্যবসায় মনোযোগী হন। এতে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যায় কি-না? এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
না, বিষয়টি তেমন না। আমার আগে কিন্তু তেমন কেউ ব্যবসায় মনোযোগী হয়নি। সবাই আসলে অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য একটা আয়ের মাধ্যম খোঁজেন। সেই জায়গা থেকেই ব্যবসা করা। তবে বলছি না, অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব না। সেই সুযোগ আছে, তবে অভিনয়ের আয় কিন্তু স্থায়ী না।
আপনাদের মতো সিনিয়রদের অনেকের হাতেই এখন তেমন কোনো ছবির কাজ নেই। এমন অবস্থা কেন তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন?
দেখুন, আমাকে যদি এখন বলেন কলেজের ছাত্রীর চরিত্রে অভিনয় করতে হবে, তাহলে কিন্তু সেটা আমার পক্ষে করা সম্ভব না। কারণ আমার সঙ্গে এখন সেটা যাবে না, আর দর্শকরাও মানতে পারবে না। আমার বয়সের সঙ্গে যায় এমন গল্প পেলে নিশ্চয় আমি কাজ করবো।
অনেকেই ওটিটি বা ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন। কিন্তু আপনাদের এই মাধ্যমে দেখা যায় না কেন?
অন্যরা কেন কাজ করছে না সেটা বলতে পারবো না। তবে আমি কিন্তু ওয়েব সিরিজে কাজ করেছি। আমার পছন্দের কোনো চরিত্রে পেলে আরো কাজ করবো।
আপনাদের মতো ম্যাচিউরড অভিনেত্রীদের কোনো নায়কের ভাবি বা মা হতে ভয় বা অনিহা কেন? এটা এক ধরনের হীনমন্যতা কি-না?
না, আমি কিন্তু ২০১৪ সালে বাপ্পীর বড় বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার কাছে অফার তেমন আসেনি। এলে নিশ্চয় করবো। কারণ আমার কাছে চরিত্রটাই আসল বিষয়। আমি চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত কি-না, নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ আছে কি-না, এই বিষয়গুলো দেখেই আমি কাজ করি। সেটা যে ধরনের চরিত্রই হোক।
শাকিব খান নির্ভর হয়ে পড়েছে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। কেন তার বিকল্প তৈরি হচ্ছে না বলে মনে করেন?
একজন শিল্পী হিসেবে বলবো, শাকিব তার চরিত্র, মেকআপ, পরিবেশনা নিয়ে খুবই ভাবেন। এছাড়া নিজের ১০০% দিয়ে অভিনয় করার চেষ্টা করেন। এগুলোই তাকে এই জায়গায় নিয়ে গেছে। আর এখন যে সকল পরিচালক কাজ করছেন তারা হয়তো সেভাবে আর্টিস্টদের তুলে ধরতে পারছেন না। তাই বিকল্প কেউ উঠে আসছে না।
জনশ্রুত আছে যে, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের উত্থানের পেছনে আপনার অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। সমিতির প্রথম নির্বাচনেও আপনি সক্রিয় ছিলেন। তারপরও কেন আপনাদের মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়েছে?
উত্থান বলতে, আমার কাছে যে-ই আসে আমি তাকে পজিটিভলি সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। কিন্তু যখন বুঝি যে সে আমার এই সরলতাকে ভালোভাবে গ্রহণ না করে সেটা ব্যবহার করার চেষ্টা করছে তখন সেখান থেকে সরে আসি। কারণ তার (জায়েদ) কাছ থেকে তো চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। যেহেতু শিল্পী সমিতিতে আমরা সেভাবে সময় দিতে পারি না, তাই চেয়েছিলাম এমন কাউকে নিয়ে আসতে, যে পুরোপুরি সময় দেবে। সেই ভাবনা থেকেই ২০১৭ সালে ফেরদৌস, পূর্ণিমা, পপিসহ প্রায় সবাই মিলে আমরা তাকে এই পদে নিয়ে আসি। কিন্তু সময় দিতে গিয়ে যদি আপনি এফডিসিকে ব্যক্তিগত অফিস বানিয়ে ফেলেন তাহলে তো সমস্যা! বলতে পারেন, এফডিসি কারো ব্যক্তিগত অফিস হওয়ায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।