রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর রাণীনগরে সম্মিলিত কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে চাষ করা হচ্ছে বীজবিহীন লেবু। ‘সুফলা নওগাঁ এগ্রো প্রজেক্ট’ এর ১৫ জন যুবকের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে সমন্বিত এ কৃষি বাগান। বীজবিহীন ‘চায়না-৩’ জাতের লেবু চাষে বর্তমানে এই সুফলা নওগাঁ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের সফলতা দেখে এলাকার অন্য চাষিরাও এখন এ লেবু চাষের দিকে ঝুঁকছেন। সুফলা নওগাঁ এগ্রো প্রজেক্টের সভাপতি ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিব রতন বলেন, দেশে যত জাতের লেবু আছে তার মধ্যে এ জাতের লেবুর ধারণ ক্ষমতা বেশি এবং সারা বছর লেবু পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে দেড় থেকে ২ হাজার পিস লেবু উঠানো হচ্ছে। বাজারে প্রতি হাজার লেবু ৫ হাজার টাকা হিসেবে পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে। গত দুই বছরে ২ লাখ টাকার লেবু ও ১ লাখ টাকার চারা বিক্রি করা হয়েছে। এ বাগান থেকে চারা অংগ্রহ করে আশপাশে অনেক বাগান গড়ে উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চকাদিন গ্রামে ২০১৯ সালের শুরুতে দুই একর পতিত জমি ১০ বছরের জন্য লিজ নেয় কয়েক জন যুবক। সে সময় নাটোরের ভাতুরিয়া হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ৩০ টাকা পিস হিসেবে ৫০০টি চায়না-৩ জাতের লেবুর চারা সংগ্রহ করেন তারা। বর্তমানে এ বাগানে রয়েছে ৭০০টি চায়না-৩ লেবু, ২০০টি পেয়ারা, ৬০০টি ড্রাগন ও ২০০টি মাল্টার গাছ। তাদের সফলতা দেখে কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান ১০ কাঠা, ঐ গ্রামের গোলাম মোস্তফা এক বিঘা, চককুতুব গ্রামের মিন্টু এক বিঘা, কুজাইল গ্রামের রাকিব ১০ কাঠা এবং আব্দুর রাজ্জাক ও মোখলেছুর রহমান চার বিঘা জমিতে চায়না-৩ জাতের লেবুর বাগান করেছেন। কাশিমপুর গ্রামের আব্দুল মমিন বলেন, এ জাতের লেবু থেকে সারা বছর লেবু পাওয়া যায়। গুণগত মান ভালো এবং লাভজনক হওয়ায় দুই বিঘা জমিতে বাগান করেছি। বাগানে ফল আসা শুরু হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে এবং কয়েক জন যুব কৃষকদের উদ্যোগে একটি মিশ্র ফল বাগান সৃজন করা হয়েছে। তাদের এই সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও উদ্বৃদ্ধ হচ্ছেন। এ লেবু বীজবিহীন, রস বেশি, গাছে ফলের পরিমাণও বেশি হয়। এখানকার আবহাওয়া ও মাটি এ জাতের লেবু চাষে উপযোগী। পোকামাকড়ের উপদ্রবও কম। অল্প সময়ে ও অল্প খরচে লেবু চাষ করা সম্ভব।