সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লেখক হওয়ার নতুন প্ল্যাটফরম

গনগনে দুপুরে বইমেলায় ‘পেন্সিল’-এর স্টলের সামনে বেশ ভিড়। ছেলেমেয়েদের গল্প-আড্ডায় মুখর হয়ে উঠেছে। কথা বলে জানা গেল, ফেসবুকে ৩ লাখ ১৮ হাজার সদস্যের বিশাল গ্রুপে পরিণত হয়েছে পেন্সিল। সেখানেই গল্প, উপন্যাসসহ নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা লেখেন সদস্যরা। সেখান থেকেই বেশ কয়েজন পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাদের পাঠকপ্রিয়তা থেকেই পরে পেন্সিল ফেসবুক গ্রুপ থেকে পেন্সিল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের জন্ম। দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে যাদের লেখা পাঠকরা পছন্দ করছেন তাদের বইও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে মেলায়। গ্রুপটির ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বদলে দিয়েছে লেখক পাঠকের মিলবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

দেখা যাচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বইমেলার চালচিত্র। বদলে যাচ্ছে লেখক গড়ে ওঠা ও পাঠক সৃষ্টির ধরনও। পেন্সিল-এর প্রকাশক ও গ্রুপ অ্যাডমিন সালাউদ্দিন বললেন, ২০১৬ সালে এই গ্রুপ শুরু করি। আর ২০১৯ সাল থেকে বই প্রকাশ শুরু করি। প্রতি বছরই ৫০টির বেশি বই প্রকাশ করেছি। এরা সবাই পেন্সিল গ্রুপের সদস্য। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন লেখক বেশ ভালো জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। যারা সাধারণভাবে লেখক হিসেবে খুব পরিচিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় লেখক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এদের মধ্যে রুহুল আমিন, লুনা নুসরাত, রেশমী রফিক, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, অনামিকা। এই লেখকরা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছেন বলে জানালেন সালাউদ্দিন।

এদিকে, নবীন বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান য়ারোয়া বুক কর্নারের প্রকাশক জান্নাতুন নেসা জানালেন, বইমেলার চাইতে তাদের বই অনলাইনে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানালেন, অনলাইনে তরুণ লেখকদের বই বিক্রি হচ্ছে বেশি। সেখানে লেখকের নাম দেখে বই কিনছেন না পাঠকরা। বরং লেখা পড়ে ভালো লাগলে বই অর্ডার করছেন। একেবারেই তরুণ লেখক সজল মনিরের ‘মন খারাপের দুপুরবেলা’ শফিক নহরের ‘মায়া কুটির’ বইমেলা শুরুর অনলাইনে প্রথম এডিশন শেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ছুটির দিনে শেষ বেলায় জমেছে মেলা : মেলা জমতে সময় নেয়। কয়েক দিন পেরোলে পাঠকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনের কল্যাণে এবার দ্বিতীয় দিনেই মেলা জমে উঠল। সকাল থেকে বেলা যত বেড়েছে মেলায় পাঠকের আনাগোনা বেড়েছে। সব স্টলে বিক্রি সমান হারে না বাড়লেও মানুষের সমাগম জমিয়ে তুলেছে বইমেলা।

প্রথম দিনের ধুলি-ধূসর পরিস্থিতি কাটিয়ে মেলা গুছিয়ে উঠেছে। পানি ছিটানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। ফিরে এসেছে চিরচেনা সুন্দর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। মাত্রই শুরু হলো মেলা কিছু অব্যবস্থাপনা রয়েছে, কিন্তু সেসব কোনো বাধা হয়নি বইয়ের টানে ছুটে আসা দর্শনার্থীদের। যারা বইয়ের গন্ধ ভালোবাসেন, ভালোবাসেন পড়তে তারা ঠিকই এসেছিলেন মেলায়। নতুন নতুন বইয়ের ছটায় আলোকিত হয়ে উঠেছে বইমেলা। এদিকে, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে আলোচনা ও অনুষ্ঠান।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী,  মেলার দ্বিতীয় দিনে গল্প-উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, কল্পবিজ্ঞান, সাহিত্য, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৫৫টি। গ্রন্থকুটির থেকে এসেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা’। আগামী প্রকাশনী থেকে এসেছে মোনায়েম সরকারের ‘স্বাধীন স্বদেশে জনকের প্রতিধ্বনি’। একই প্রকাশনী থেকে এসেছে হুমায়ুন মালিকের উপন্যাস ‘মুজিব’, আসাদ মান্নানের কাব্যগ্রন্থ ‘এলিজি মুজিব নামে’, আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরীর ‘শেখ কামাল যদি আজ বেঁচে থাকতেন’ এবং মইনুল আহসান সাবেরের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই ‘পাথর সময়’। অনন্যা থেকে এসেছে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘মানুষ মানুষের জন্য এবং অন্যান্য’ এবং হরিশংকর জলদাশের ‘পৌরাণিক গল্প’। অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে মোশতাক আহমেদের সায়েন্স ফিকশন ‘দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’।

মেলামঞ্চের আয়োজন : এদিন বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আরমা দত্ত এমপি ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন রঞ্জনা বিশ্বাস, আশরাফ জুয়েল এবং মঈনুল হাসান।

আজকের মেলা :আজ শনিবার বইমেলার তৃতীয় দিন। মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।  বিকালে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আবুল কাশেম এবং আবদুল মান্নান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম।