স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের ইনিংসে চোখ বুলালে মনে হবে ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালের উইকেট হয়তো ব্যাটসম্যানদের জন্য ‘মৃত্যুকূপ’ হয়ে ধরা দিয়েছিল। কার্যত রানের উইকেটই ছিল, সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন অনুযায়ী স্বভাবসুলভ বাউন্স। যদিও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানের হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার জন্য উইকেটের ফনা তোলার দরকার হয়নি। সৌম্য-মুশফিকরা নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন।
অলরাউন্ডাররাসহ ব্ল্যাক ক্যাপসদের একাদশে মূল ব্যাটসম্যান সাতজন। বছরের পর বছর খেললেও একাদশ গঠনে নেতিবাচক মানসিকতা থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। গতকাল ডানেডিনে বাংলাদেশের একাদশে অলরাউন্ডাররাসহ ব্যাটসম্যান ছিলেন আট জন। এমন কৌশল রক্ষকবচ হয়নি তামিম-ডমিঙ্গোদের জন্য। বরং আট ব্যাটসম্যান নিয়ে গড়া একাদশ ডানেডিনে মুখ থুবড়ে পড়েছে ১৩১ রানে। ইনিংস স্থায়ী হয়েছিল ৪১.৫ ওভার।
বাংলাদেশের জঘন্য ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনীতেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল। আনুষ্ঠানিকতা সারতেও সময় নেয়নি নিউজিল্যান্ড। ২১.২ ওভারে ২ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে দলটি। ৮ উইকেটের জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। আগামী ২৩ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে মাঠে গড়াবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।
টসে হেরে ব্যাট করা বাংলাদেশকে প্রথম ধাক্কাটা দেন ট্রেন্ট বোল্ট। দারুণভাবে তামিমকে সেটআপ করে আউট করেছেন তিনি। একই জায়গা থেকে দুটি আউট সুইঙ্গারের পর পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে হালকা ইনসুইঙ্গারে এলবির ফাঁদে ফেলেছেন তামিমকে। ঐ ওভারেই চতুর্থ বলে আপার কাট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তিনে ব্যাটিংয়ে আসা সৌম্য। একবার জীবন পেলেও লিটনকে বেশ ধীর-স্থির লাগছিল। সুইং কভার করতে দুই-পা সামনে এসে ব্যাটিং করছিলেন।
ফরওয়ার্ড লুকিংয়ে থাকা লিটনকে চমকে দেয় নিশামের লেন্থ বল। কোথায় খেলবেন বুঝে উঠতে না পারা লিটন ক্যাচ দিয়েছেন শর্ট মিড উইকেটে। নির্ভরযোগ্য মুশফিক কাট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়েছেন মিঠুন। জায়গা বের করে গ্ল্যান্স করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন মিরাজ। অভিষেক ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরে বসা মেহেদী হাসান স্থায়ী হননি। স্যান্টনারকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে সংগ্রাম করা মাহমুদউল্লাহ ফিরেছেন পুল করে ক্যাচ তুলে। তিন বলের মধ্যে হাসান, তাসকিনকে আউট করে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করে দেন বোল্ট। ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও এ বাঁহাতি পেসার।
বাংলাদেশের তামিম ১৩, লিটন ১৯, মুশফিক ২৩, মাহমুদউল্লাহ ২৭, মেহেদী হাসান ১৪, তাসকিন ১০ রান করেন। স্যান্টনার ২টি, নিশাম ২টি করে উইকেট নেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে গাপটিল ৩৮, নিকলস অপরাজিত ৪৯, কনওয়ে ২৭, ইয়ং অপরাজিত ১১ রান করেন। তাসকিন-হাসান মাহমুদ ১টি করে উইকেট নেন।
স্কোর কার্ড
টস: নিউজিল্যান্ড
বাংলাদেশ ইনিংস রান বল চার ছয়
তামিম এলবিডব্লিউ ব বোল্ট ১৩ ১৫ ১ ১
লিটন ক বোল্ট ব নিশাম ১৯ ৩৬ ১ ০
সৌম্য ক কনওয়ে ব বোল্ট ০ ৩ ০ ০
মুশফিক ক গাপটিল ব নিশাম ২৩ ৪৯ ২ ০
মিঠুন রান আউট (নিশাম) ৯ ২৭ ১ ০
মাহমুদউল্লাহ ক স্যান্টনার ব হেনরি ২৭ ৫৪ ১ ১
মিরাজ বোল্ড ব স্যান্টনার ১ ১০ ০ ০
মেহেদি ক নিকোলস ব স্যান্টনার ১৪ ২০ ১ ১
তাসকিন ক স্যান্টনার ব বোল্ট ১০ ৩২ ১ ০
হাসান মাহমুদ বোল্ড ব বোল্ট ১ ৫ ০ ০
মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত ১ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (লে বা-৩, নো-১, ও-৯) ১৩
মোট (৪১.৫ ওভার, অলআউট) ১৩১
উইকেট পতন: ১/১৯ (তামিম), ২/১৯ (সৌম্য), ৩/৪২ (লিটন), ৪/৬৯ (মুশফিক), ৫/৭২ (মিঠুন), ৬/৭৮ (মিরাজ), ৭/৯৮ (মাহেদি), ৮/১২৫ (মাহমুদউল্লাহ), ৯/১৩০ (হাসান), ১০/১৩১ (তাসকিন)।
বোলিং :বোল্ট: ৮.৫-০-২৭-৪ (ও-৪), হেনরি: ৯-১-২৬-১, জেমিসন: ৮-১-২৫-০ (ও-১), নিশাম: ৮-১-২৭-২ (ও-২, নো-১), স্যান্টনার: ৮-০-২৩-২ (ও-২)।
নিউজিল্যান্ড ইনিংস রান বল চার ছয়
গাপটিল ক মুশফিক ব তাসকিন ৩৮ ১৯ ৩ ৪
হেনরি নিকোলস অপরাজিত ৪৯ ৫৩ ৬ ০
কনওয়ে ক মাহমুদউল্লাহ ব হাসান ২৭ ৫২ ২ ০
উইল ইয়ং অপরাজিত ১১ ৬ ২ ০
অতিরিক্ত (বা-১, লে বা-২, নো-২, ও-২) ৭
মোট (২১.২ ওভার, ২ উইকেট) ১৩২
উইকেট পতন: ১/৫৪ (গাপটিল), ২/১১৯ (কনওয়ে)।
বোলিং:মুস্তাফিজুর রহমান: ৪-০-২৬-০ (ও-১),
হাসান মাহমুদ: ৪.২-০-৪৯-১, তাসকিন আহমেদ: ৪-০-২৩-১ (ও-১, নো-২), মেহেদি হাসান: ৬-০-১৭-০, মেহেদি হাসান মিরাজ: ২-০-৯-০, সৌম্য সরকার: ১-০-৫-০।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড)।
সিরিজ: ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড।