২৬শে মার্চ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী তথা স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পূর্ণতা পাবে। এই দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। মহত্তম এই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত গৌরবগাঁথা স্বাধীনতা। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। ২০২১ সালের ২৬শে মার্চ সেই রক্তে কেনা স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পূর্ণতা পেতে চলেছে। স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে এসে বাংলাদেশ অর্জন করেছে অভূতপূর্ব সাফল্য। সাফল্য এবং ব্যর্থতার মানদণ্ডে সাফল্যের মেরু তুলনামূলক বেশি ভারী। সর্ব সেক্টরে অর্জন করেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে চলছে প্রিয় মাতৃভূমি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে আমাদের প্রাপ্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—স্বপ্নের পদ্মা সেতু। স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপ দেওয়া আমাদের জন্য আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ছিল। কাজটা আমাদের জন্য মোটেই সহজ ছিল না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়ে তিন বছর দুই মাস ১০ দিনের মাথায় নিজস্ব অর্থায়নে পূর্ণতা পেয়েছে বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এই সেতু ভবিষ্যতে আমাদের আর্থ-সামাজিক ও শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পাশাপাশি মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণ, কর্ণফুলী টানেলসহ দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটল বাংলাদেশের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে নিয়ে গিয়েছিল। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। যা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)
বাংলাদেশকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করেছে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের মানদণ্ডের বিবেচনায় উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এই তিনটি সূচকে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করেছে। কোভিড-১৯-এর মধ্যেও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যা আমাদের বিশ্বের দরবারে গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নারীরা এখন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনীতিসহ সর্বস্তরে অবদান রেখে চলেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পিছিয়ে নেই গ্রামীণ জনপদের নারীরা। তারাও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। যা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে নেই তরুণ প্রজন্ম। আজকের তরুণ আগামীর রাষ্ট্রের কর্ণধার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তরুণ প্রজন্ম আজ জড়িয়ে পড়ছে মাদক, দুর্নীতিসহ সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে। আইনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবেই এমনটা হচ্ছে। যা স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে এসে এমনটা কাম্য নয়। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ তরুণ। তরুণ প্রজন্মকে মানব সম্পদে পরিণত করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রকে তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, ইচ্ছা এবং মতামত যথাযথ মূল্য দিতে হবে। তরুণদের সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী কাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সর্বোপরি, তরুণ প্রজন্ম সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে নিয়ে যাবে প্রিয় জন্মভূমিকে। স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে এমনটাই প্রত্যাশা রাখি।
n লেখক : শিক্ষার্থী, ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, গাজীপুর