নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে

আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের সৌন্দর্যবর্ধনে নদনদীগুলো ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। রয়েছে অসংখ্য নদনদী। যেগুলো সংখ্যার দিক থেকে ৭০০-এর মতো প্রায়। তন্মধ্যে প্রধান প্রধান নদীসমূহের মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, কর্ণফুলী, ব্রহ্মপুত্র অন্যতম। আবার এগুলোর রয়েছে উপনদী এবং শাখানদী। এসব প্রধান প্রধান নদীসমূহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মেঘনা নদীর উপনদীর মধ্যে রয়েছে তিতাস, গোমতী, বাউলাই, আর মনু। মহানন্দা নদীর উপনদীর মধ্যে রয়েছে পুনর্ভবা, নাগর, কুলিখ এবং টাঙ্গন। যমুনা নদীর উপনদী হিসেবে করতোয়া এবং আত্রাই। আর শাখানদী হিসেবে ধলেশ্বরী এবং বুড়িগঙ্গা অন্যতম। পদ্মা নদীর উপনদী হিসেবে মহানন্দা, ইচ্ছামতী আর শাখানদী হিসেবে ভৈরব, গড়াই, মধুমতী কিংবা আড়িয়াল খাঁ। তাছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদীর উপনদীর মধ্যে তিস্তা এবং ধরলা উল্লেখযোগ্য। আবার এসব নদী দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। যেমন—পদ্মা ও মেঘনা নদী গোয়ালন্দে (রাজবাড়ীতে) মিলিত হয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়ে আজমিরীগঞ্জে, ব্রহ্মপুত্র ও কুশিয়ারা ভৈরবে, পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল চাঁদপুরে, হালদা ও কর্ণফুলী নদীর মিলনস্থল কালুরঘাটে এবং তুইভাই ও বরাক মিলিত হয়েছে আসামে।

নদনদীগুলো হচ্ছে জাতীয় ও প্রাকৃতিক সম্পদ। পৃথিবীতে যতগুলো নদনদী, সাগর, মহাসাগর রয়েছে সেগুলো প্রতিটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রাচীনকালে ব্যবসা বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মপরিচালনায় নদীগুলো মহান ভূমিকা পালন করেছে। দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানি করার ক্ষেত্রে নৌপথ ব্যবহার করা হতো। তাছাড়া নদীর পানি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতো এবং নদীতে প্রচুর মত্স্য শিকার করা হতো। আর সেগুলো আমাদের খাদ্যের অভাব পূরণে সহায়ক হিসেবে কাজ করে কিন্তু অতি দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের নদীগুলো তাদের সৌন্দর্যরূপ হারিয়ে ফেলেছে। আয়তন সংকীর্ণ হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী স্থানে অবৈধভাবে দালানকোঠা স্থাপিত হচ্ছে। নদীতে বালি উত্তোলন করা, অতিরিক্ত খনন করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি, শিল্প কলকারখানার নোংরা ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলা, প্লাস্টিক পণ্য নদীতে ফেলা, নদীতে মাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে করে নদীগুলোর সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলা যায়। নদীপথ সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে আর যাতায়াতের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীপথের আয়তন ছিল প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার কিন্তু বর্তমানে এ আয়তন সংকুচিত হয়ে মাত্র ৬ হাজার কিলোমিটারে রূপ ধারণ করেছে। নদী রক্ষার ব্যাপারে আদালতের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও সে নির্দেশনা লঙ্ঘনের চিত্র অতি সাধারণভাবে লক্ষ করা যায়। নদী রক্ষার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। অবৈধভাবে দালানকোঠা স্থাপন করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নদীতে বালি উত্তোলন করা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে, অতিরিক্ত খনন করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করা বন্ধ করতে হবে, শিল্প কলকারখানার নোংরা ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলা যাবে না, প্লাস্টিক পণ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে, নদীতে মাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাবে না। নদীশাসন, দখল এবং দূষণ রোধ করতে হবে। সুতরাং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কেননা, নদী হচ্ছে আমাদের জাতীয় সম্পদ। এগুলো রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবর্ধনে আমাদের নদী রক্ষার শপথ নিতে হবে।

n লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা