পশ্চিম বুড়িচং এলাকায় মাদক

ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা বুড়িচং কুমিল্লা জেলার প্রধান নদী গোমতী দ্বারা দু’ভাগে বিভক্ত। নয় ইউনিয়নের পাঁচ উপজেলা সদরসহ গোমতীর পূর্ব পাড়ে আর বাকি চার ইউনিয়ন গোমতীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। ময়নামতি, মোকাম, ভারেল্লা উত্তর ও ভারেল্লা দক্ষিণ—এই চার ইউনিয়নের পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক। অভিযোগ রয়েছে—সীমান্ত দিয়ে বিভিন্নভাবে পাচার হয়ে আসে মাদক। উদ্বেগজনক হচ্ছে—ময়নামতির ফরিজপুর, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ময়নামতি সিএমএইচ গেটের পূর্ব পাশ, নাজিরাবাজার, ঘোষনগর, কালাকচুয়া হিন্দু বাড়ি, রামপাল, মীরপুর খেয়াঘাট, সমেশপুর, রানী ময়নামতি কুটির সংলগ্ন এলাকা, হরিণধরা পশ্চিম পাড়া, বিন্দিয়ারচর, শরীফপুর, মোকামের নিমসার, কোরপাই, কাবিলা, ভারেল্লা উত্তরের কংশনগর বেড়িবাঁধ, পশ্চিমসিংহ, ভারেল্লা দক্ষিণের রামপুর ডাকঘর সংলগ্ন এলাকাসহ বেশ কিছু জায়গায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মাদক। প্রতিদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে মাদকসেবীদের। মাদক বিক্রেতারা প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস করে না। মাদকসেবীর তালিকায় প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও। জানা যায়, ময়নামতি ও এর আশপাশ এলাকায় বেশ কিছু ইয়াবার পাইকার রয়েছে। ‘হোম ডেলিভারি’-তেও মাদক সরবরাহ করা হয়! মোবাইলফোনে কল করলেই স্থানীয় খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকসেবীদের কাছে প্রয়োজনীয় মাদক সরবরাহ করে। মাদকসেবনকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায়, মাদক বিক্রির স্পটগুলোতে নিয়মিত পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক